আজ ৬ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২০শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

টাংগাইল পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডে নেই কোন নির্বাচনি প্রচারনা

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ আসন্য টাঙ্গাইল পৌরসভা নির্বাচনে ২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে ৫জন প্রার্থীতা ঘোষনা করলেও এখন প্রর্যন্ত কাউকে দেখা যায়নি নির্বাচনি প্রচারনায়। নির্বাচন নিয়ে ভোটারদের মধ্যেও তেমন কোনও আগ্রহ নেই। জমছে না চায়ের আড্ডাও। বেশ কিছুদিন পৌর নির্বাচনের বাকি। তবে এসময়ে পৌর নির্বাচনি ২নং এলাকায় তেমন কোনও উত্তাপ নেই। তবে কাউন্সিলর প্রার্থীদের মধ্যেও নেই প্রচারণার তোরজোর। পোস্টারের উপস্থিতিও রয়েছে কম।

স্থানীয়দের সাথে কথা হলে তারা বলেন, ২নং ওয়ার্ডে বিভিন্ন জায়গায় রাস্তাঘাটের অবস্থা খারাপ রয়েছে। এছাড়াও বেশ কয়েকটি এলাকায় রাস্তা কাঁচা রয়েছে। ড্রেনেজ ব্যবস্থা থাকলেও অল্প বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন জায়গায় রয়েছে মাদক সেবিদের সমস্যা। বিভিন্ন জায়গায় রাস্তায় লাইটিং এর ব্যবস্থা থাকলেও অনেক জায়গায় নেই।

স্থানীয়রা আরো জানান, ২নং ওয়ার্ডের বৈল্লা বাজারটি জনবহুল একটি বাজার। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এই বাজারে আসেন। বিগত সময়ে বাজারের অনেক উন্নয়ন হয়েছে। কিন্তু এর পরেও এই বাজারের আরো উন্নয়ন প্রয়োজন।

২নং ওয়ার্ডে ভোটার সংখা রয়েছে প্রায় ৮ হাজার ১৮২জন। টাঙ্গাইল পৌর শহরের ধুলেরচর, কষ্টা পাড়া. বৈল্লা, এনায়েতপুর পালপাড়া, এনায়েতপুর মধ্য পাড়া এলাকা নিয়ে ২নং ওয়ার্ড গঠিত।

টাঙ্গাইল পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামছেন  ৫জন। বর্তমান কাউন্সিলর এসপি পার্কের দপ্তর সম্পাদক মো. ইকবাল হোসেন আলী, সাবেক কাইন্সিলর শাজাহান মিয়া বাবু, ২নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মোকাদ্দেছ মিয়া, মৃদুল দাস মিঠুন, মো. ফরহাদ ইকবাল রুবেল।

সাবেক কাইন্সিলর শাজাহান মিয়া বাবু বলেন, আমি যখন কাউন্সিলর ছিলাম এলাকার অনেক রাস্তাঘাট বৃীজ কালভার্ট করেছি। এ ওয়ার্ডে আমি যে কাজ করেছিলাম ১০ বছরে সেই কাজ গুলো রয়েছে। আমার মনে হয়না বর্তমান কাউন্সিলর নতুন কোন কাজ করেছে। এবার আমি নির্বাচিত হলে এ এলাকার জনগনকে সাথে নিয়ে ১৮টি ওয়ার্ডের চেয়ে একটি মডেল ওয়ার্ড গড়ে তুলবো। আমাদের ২নং ওয়ার্ডে সন্ত্রাস চাঁদাবাজ নেই। নেউ ইভটিজিং। মাদক নেই বলেই চলে। তবে কিছু মাদকের সমস্যা রয়েছে। এ এলাকার জনগন একটু সচেতন থাকে তাহলে মাদক নির্মুল করা সম্ভব আমি মনে করি। করোনাকালে আমার নিজস্ব তহবিল থেকে অসহায় মানুষদের সহযোগিতা করেছি।

তিনি আরো বলেন, আমি এলাকার জনগনের সাথে বিভিন্ন জায়গায় উঠান বৈঠক করছি। ২নং ওয়ার্ডের জনগনের সুখে দুখে তাদের পাশে রয়েছি। এ জন্য জনগণ আমাকে সমর্থন ও ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন। নির্বাচিত হলে ২নং ওয়ার্ডে সার্বিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবো আমি আশা রাখি।

বর্তমান কাউন্সিলর মো. ইকবাল হোসেন আলী বলেন, আমি দুই দফা নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন করেছি। এ ছাড়াও ব্যক্তিগতভাবে অসহায় পরিবারকে সহায়তা করা হয়েছে। ঈদুল ফিতরের সময় ব্যক্তিগতভাবে অসহায় পরিবারের মধ্যে সহযোগিতা করা হয়েছে। আমি পুনরায় বিজয়ী হলে এলাকায় অসমাপ্ত কাজগুলো সম্পূন্ন করতে চাই।

তিনি আরো বলেন, এই ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় রাস্তার উন্নয়ন করা হয়েছে। অপরদিকে বিভিন্ন মসজিদ এবং মন্দিরের উন্নয়নসহ আর্থিক সহযোগিতা করা হয়েছে। করোনার সময় ব্যক্তিগতভাবে অসহায় সুস্থ ও কর্মহীনদের মধ্যে আটা, আর্থিক অনুদান এবং বস্ত্র বিতরণ করা হয়। এই ওয়ার্ডে প্রতিটি রাস্তায় বিদ্যুতিক খুটি দ্বারা বৈদ্যুতের ব্যবস্থা করা হয়েছে, এছাড়াও কিছু কাজ চলমান রয়েছে।

কাউন্সিলর প্রার্থী মোকাদ্দেছ মিয়া বলেন, এলাকায় তুলনামূলক উন্নয়ন কম হয়েছে। এখনো অনেক সমস্যা রয়েছে। আমি নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে এসব সমস্যার সমাধান করবো। আশা করছি জনগণ এবার আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচনে বিজয়ী করবেন। করোনার সময় অসহায় এবং গরীব লোকদের সহায়তার ক্ষেত্রে আমার ভূমিকা রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, আমি নির্বাচিত হলে সমাজের ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করবো। এ ছাড়া মাদকনির্মূল, চাঁদাবাজমুক্ত এলাকা গড়ে তুলবো। এলাকায় ব্যাপক উন্নয়নমূলক কাজ করবো। আমি সাধারণ মানুষের চাওয়া পাওয়াকে প্রাধান্য দেবো। সুখে এবং দুঃখে এবং যে কোন বিপদে এলাকার সকল মানুষের পাশে থাকবো।

কাউন্সিলর প্রার্থী মো. ফরহাদ ইকবাল রুবেল বলেন, আমার ওয়ার্ডে সার্বিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবো আমি আশা রাখি। ২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদপ্রার্থী হিসেবে আমি প্রচার প্রচারনা অব্যহত রেখেছেন। এছাড়াও এ ওয়ার্ডে আমি নির্বাচিত হলে ২নং ওয়ার্ডকে মাদক ,বাল্যবিবাহ মুক্ত একটি মডেল ওয়ার্ড হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। করোনাকালে আমার সাধ্য মতো অসহায় মানুষের মাঝে ত্রাণ দিয়েছি। জনগণ আমাকে সমর্থন ও ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এ বিভাগের আরো সংবাদ