আজ ২৫শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ৮ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

ঘাটাইলের জোড়দীঘি কলেজের সভাপতি ও অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ  ঘাটাইলে জোড়দীঘি (হাজিপাড়া) কারিগরি ও বিএম কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আবদুল খালেক ও অধ্যক্ষ নুর আলমের বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জানা গেছে, ২০০৪ সালে কলেজটি প্রতিষ্ঠার পর ২০০৬ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি গভর্নিং বডির প্রথম সভায় অধ্যক্ষ ও অন্যান্য শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেয়ার জন্য রেজ্যুলেশন হয়। পরে ওই বছর ৮ মার্চ ও ২২ মার্চ তারিখে দুটি দৈনিকে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়। ১৭ এপ্রিল নিয়োগ বোর্ড গঠন ও ২৮ এপ্রিল নিয়োগ পরীক্ষার মাধ্যমে অধ্যক্ষ ও শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ সম্পন্ন করে। অথচ সরকারি বেতন-ভাতা উত্তোলন ফরমে অধ্যক্ষ নুর আলমের যোগদানের তারিখ ২০০৫ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি। অপরদিকে ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠানের তৎসময়ের সভাপতি হাসান মাসুদ কৃষি ডিপ্লোমা শাখায় শিক্ষক নিয়োগের জন্য পত্রিকায় আরও একটি বিজ্ঞপ্তি দেন। তবে বিজ্ঞপ্তি দিলেও ওই সময় তিনি কোনো নিয়োগ দেননি। পরবর্তী সময় ২০১৯ সালের ২৩ অক্টোবর অত্র প্রতিষ্ঠানের কৃষি ডিপ্লোমা শাখাটি এমপিওভুক্ত হয়।

এক যুগ পর বর্তমান সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আবদুল খালেক ২০০৬ সালের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির আলোকেই সাতজনকে নিয়োগ দেন। কিন্তু কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের যাচাই-বাছাইয়ে একজনের নিয়োগ বৈধ হয়। অপর ছয়জনের নিয়োগ অবৈধ হওয়ায় তা বাতিল করা হয়।

এর আগেও উক্ত প্রতিষ্ঠানের সভাপতির বিরুদ্ধে শহর গোপিনপুর দাখিল মাদ্রাসায় নিয়োগ বানিজ্যের অভিযোগ এর জন্য তাকে অপসারণ করা হয়। এছাড়াও আঃ খালেক আরও ৩টি(জোড়দিঘী ছাকেদ আলী উচ্চ বিদ্যালয়, ফজরগঞ্জ দাখিল মাদ্রাসা,শেখ হাসিনা প্রতিবন্ধী স্কুল) প্রতিষ্ঠান থেকে নিয়োগ বাণিজ্যের প্রলোভন দেখিয়ে মানুষের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে জানা গেছে।

অপরদিকে উক্ত প্রতিষ্ঠান এর অধ্যক্ষ নূর আলমের বিরুদ্ধেও নানা ধরণের দূর্নীতির অভিযোগ পাওয়া যায়। অধ্যক্ষ নুর আলম বলেন, ২০০৪ সালের ১৩ ডিসেম্বর প্রস্তাবিত বিএম কলেজে বিধি মোতাবেক অধ্যক্ষ নিয়োগে একটি জাতীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়। ওই বিজ্ঞপ্তির আলোকেই আমাকে নিয়োগ দেয়া হয়।

২০০৬ সালে পুনরায় কেন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয়া হল এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বোর্ডে স্বীকৃতি পাওয়ার পর ওটাকে আবার বিজ্ঞপ্তি দিয়ে বৈধ করে নেয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, অধ্যক্ষ নুর আলমের সঙ্গে যোগসাজশ করে গভর্নিং বডির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আবদুল খালেক কমপক্ষে দেড় কোটি টাকা নিয়োগ বাণিজ্য করেছেন। আবার শিক্ষক কেউ তার কথামতো না চললে তাকে নানা হয়রানির শিকার হতে হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ভুক্তভোগী এক শিক্ষক বলেন, সভাপতি মাউশির একজন প্রভাবশালী কর্মকর্তা হওয়ায় তার হস্তক্ষেপে সরকারি বেতন-ভাতা ফরমে ইচ্ছাকৃতভাবে নামের অক্ষর ভুলভাবে টাইপ করা হয়। এতে বেতন আটকে যায়। পরে ১০ হাজার টাকা ঘুষ দিয়ে তা সংশোধন করতে হয়। এ দিকে গভর্নিং বডির কমিটিও অবৈধ বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা। ফলে তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ঘাটাইল আসনের এমপি আতাউর রহমান খান অবৈধভাবে গঠিত গভর্নিং বডির অনুমোদন না দেয়ার জন্য চলতি বছর ২০ জুলাই বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে ডিওলেটার দেন।

ভুক্তভোগী মিন্টু মিয়া বলেন, আমাকে অফিস সহকারী পদে নিয়োগ দেবে বলে আমার কাছ থেকে চার লাখ টাকা ঘুষ নেয়। পরে অন্য একজনের কাছ থেকে বেশি টাকা নিয়ে তাকে নিয়োগ দেয়।এছাড়াও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী নিয়োগ এর কথা বলে রাজা মাহমুদ কে ৮ বছর বিনা বেতনে কাজ করানো হয় এবং আয়া পদের জন্য কুলসুম বেগমকে নিয়োগের আশ্বাস দিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করে উক্ত পদে অন্য জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

লালমাহমুদ নামক এক বিদেশ ফেরত ব্যাক্তিকে দীর্ঘদিন কাজে নিয়োজিত ছিলেন দেখিয়ে ওই পদে নিয়োগ দিয়েছে সভাপতি এবং অধ্যক্ষের যোগসাজশে।

জানা গেছে, ইঞ্জিনিয়ার আবদুল খালেক মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদফতরের সহকারী পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন)। ফলে প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি পদ দখল করেন। বর্তমানে তিনি চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সভাপতি।

সূত্র আরো জানায়, ইঞ্জিনিয়ার আবদুল খালেক ওই এলাকার বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির পদ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দখল করে নানা দূর্ণীতি ও অনিয়মের রাজত্ব কায়েম করছে।

জানতে চাইলে ইঞ্জিনিয়ার আবদুল খালেক অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কারিগরি ও বিএম কলেজে এখনও ২৩টি শূন্য পদ রয়েছে। ফলে অর্থলোভী এলাকার কুচক্রীমহল তাদের স্বার্থ হাসিলের জন্য এ রকম মিথ্যা প্রচার করছে।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ২০০৪ সালে নির্বাহী কমিটি নিয়োগ দিলে বোর্ড তা গ্রহণ করেনি। পরে ২০০৬ সালে এসে ওই নিয়োগকে বৈধ করার জন্য পুনরায় নিয়োগ দেয়া হয়। আর ওই সময় আমি ছিলাম না।

ঘাটাইল উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, আমি নতুন এসেছি। এ কলেজের কোনো বিষয়ে আমি কোনো অভিযোগ পাইনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এ বিভাগের আরো সংবাদ