আজ ১৩ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

মির্জাপুরে ভাবিকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে দেবরের বিরুদ্ধে

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে প্রবাসী বড় ভাইয়ের স্ত্রীকে (ভাবিকে) ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে দেবরের বিরুদ্ধে। ধর্ষণের শিকার ভাবি এখন ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। লম্পট দেবরের এমন ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। দুই শিশুসন্তান নিয়ে ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ চরম বিপাকে পড়ে এখন স্বামীর বাড়িছাড়া। ন্যায়বিচারের জন্য দুই শিশুসন্তান নিয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার ওয়াশি ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটেছে।

অসহায় গৃহবধূর অভিযোগ, তার স্বামী দীর্ঘ দিন প্রবাসে (বিদেশ) থাকেন। গত ২৮ জুলাই নিজ ঘরে তার দেবরের লালসার শিকার হয়ে তিনি ধর্ষণের শিকার হন। ঘটনার ন্যায়বিচার চেয়ে তিনি টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতে দেবরকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছেন।

বৃহস্পতিবার ওই প্রবাসীর স্ত্রী জানান, ১১ বছর পূর্বে ওই প্রবাসীর সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তাদের সংসারে এক পুত্র (৯) ও এক কন্যা (৭) রয়েছে। স্বামী বিদেশ (প্রবাসে) থাকার সুযোগে লম্পট দেবর তাকে দীর্ঘ দিন যাবত নানাভাবে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিল। গত ২৮ জুলাই রাতে দুই সন্তান নানার বাড়িতে বেড়াতে যায়। ঘরে একা পেয়ে লম্পট দেবর সাইফুল তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। তিনি শাশুড়িকে বিষয়টি জানালে পুত্রকে রক্ষার জন্য পুত্রবধূকে শিশুসন্তানসহ তাড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে বিষয়টি গোপন রাখতে বলেন।

অপরদিকে ভয় দেখিয়ে মাঝে-মধ্যেই ভাবিকে ধর্ষণ করতে থাকে দেবর। স্বামীর সংসার রক্ষা ও শিশুদের বাঁচাতে বিষয়টি গোপন রাখে। এর মধ্যে গৃহবধূ ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। বিষয়টি জানাজানি হলে গ্রাম্য সালিশ বসে।

সালিশে কেশবপুর গ্রামের মাতবর চাঁন মিয়া, বরুটিয়া গ্রামের হায়দার, জাকির, শাহিনসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। গ্রাম্য সালিশে মাতবরদের মধ্যে দুইটি গ্রুপে বিভক্ত হওয়ায় বিষয়টি মীমাংসা হয়নি। নিরুপায় হয়ে গৃহবধূ আদালতে মামলা দায়ের করেন।

এ ব্যাপারে ভাবিকে ধর্ষণ মামলার আসামি বলেন, আমার বড়ভাই বিদেশ থাকেন। ভাবি কীভাবে অন্তঃসত্ত্বা হয়েছে এটা আমি জানি না। আমাকে ফাঁসানো হচ্ছে।

এ বিষয়ে ভাওড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. আমজাদ হোসেন বলেন, এটা তাদের পারিবারিক ঘটনা ও জটিল বিষয়, বিধায় তাদের আইনের আশ্রয় নিতে বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে মামলার আইনজীবী মো. সাইদুর রহমান বলেন, টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতে অসহায় গৃহবধূ গত ১৬ সেপ্টেম্বর মামলা দায়ের করেছেন। কোর্ট থেকে মামলাটি ডিবিতে পাঠানো হয়েছে।

টাঙ্গাইলের ডিবির এসআই মো. আলমগীর হোসেন জানিয়েছেন, গৃহবধূর দায়ের করা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল মামলাটি এখন পর্যন্ত হাতে পাওয়া যায়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এ বিভাগের আরো সংবাদ
Share via
Copy link
Powered by Social Snap