আজ ১৩ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকীতে টাঙ্গাইলে পল্লী বিদ্যুত

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ টাঙ্গাইল পল্লী বিদ্যুত সমিতির আওতায় জেলার ৭টি ও সিরাজগঞ্জ জেলার একটি উপজেলায় প্রায় ১০ হাজার কিলোমিটার সঞ্চালন লাইনের মাধ্যমে ২২ লক্ষাধিক মানুষের ঘরে বিদ্যুত পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এতে ৮টি উপজেলার ৮৩টি ইউনিয়নের ৫৮৪টি গ্রাম বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকীতে ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগ, ঘরে ঘরে বিদ্যুত’ এ স্লোগানে উদ্বুদ্ধ হয়ে নিরলসভাবে কাজ করায় এ সাফল্য অর্জিত হয়েছে বলে পল্লী বিদ্যুত সমিতি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

পল্লী বিদ্যুত সমিতি সূত্রে জানা যায়, ১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠিত টাঙ্গাইল পল্লী বিদ্যুত সমিতির আওতায় জেলার সাতটি উপজেলা ও পাশের সিরাজগঞ্জের একটি উপজেলা রয়েছে। উপজেলাগুলো হচ্ছে- টাঙ্গাইল সদর, বাসাইল, নাগরপুর, দেলদুয়ার, মির্জাপুর, কালিহাতী, সখীপুর এবং সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার অংশবিশেষ। এসব উপজেলায় প্রায় দশ হাজার কিলোমিটার সঞ্চালন লাইন নির্মাণ করা হয়েছে। এর মধ্যে পিডিবি থেকে অধিগ্রহণ করা নয়শ’ কিলোমিটার সঞ্চালন লাইনও রয়েছে। আটটি উপজেলার ৮৩টি ইউনিয়নের এক হাজার ৫৮৪টি গ্রামের সবকটিতেই বিদ্যুত সুবিধা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এতে পাঁচ লাখ ১০ হাজার গ্রাহক বিদ্যুত সুবিধা পাচ্ছে।

বিদ্যুত গ্রাহকদের মধ্যে আবাসিক, বাণিজ্যিক ও সোলার মিলিয়ে ২২ লাখ ২৫ হাজার মানুষ সুবিধা ভোগ করছে। টাঙ্গাইল পল্লী বিদ্যুত সমিতি চারটি এরিয়া অফিস, পাঁচটি জোনাল অফিস, ১৮টি উপকেন্দ্র ও ২৭টি অভিযোগ কেন্দ্রের মাধ্যমে গ্রাহকদের বিদ্যুত সুবিধা নিশ্চিত করছে। তবে টাঙ্গাইল জেলার ভূঞাপুর, গোপালপুর, ঘাটাইল, মধুপুর ও ধনবাড়ী উপজেলা ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুত সমিতির আওতায় পরিচালিত হয়ে থাকে। টাঙ্গাইল পল্লী বিদ্যুত সমিতির আওতায় মুজিব বর্ষে অর্থাৎ ২০২০-২১ অর্থ বছরে প্রায় ১২শ’ কিলোমিটার সঞ্চালন লাইন নির্মাণের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করে কাজ চালানো হচ্ছে।

টাঙ্গাইল সদর উপজেলার বেলতা গ্রামের প্রতিবন্ধী নুরুল ইসলাম, কালিহাতীর সিঙ্গাইর গ্রামের নাজমুল হোসেন, দেলদুয়ারের পুটিয়াজানি গ্রামের আব্দুল ওয়াহাব সহ অনেকেই জানান, আবেদনের পর ১-২ দিনের মধ্যে তাদের বাড়িতে বিনামূল্যে বিদ্যুতের লাইন দেওয়া হয়েছে। অথচ এতদিন তারা শুনে এসেছেন বিদ্যুত পেতে মাসের পর মাস ঘুরতে হয়। অনেক টাকা-পয়সা খরচ করতে হয়। কিন্তু তারা মুজিব বর্ষে বিনামূল্যে বিদ্যুত সংযোগ পেয়েছেন।

বাসাইল উপজেলার কাউলজানী গ্রামের দরিদ্র কৃষক আব্দুল হাই জানান, তার বাড়ি থেকে বিদ্যুতের খুঁটির লাইন কিছুটা দূরে ছিল। তিনি বিদ্যুত পাবেন কিনা এ আশঙ্কা নিয়েই আবেদন করেছিলেন। হঠাৎ একদিন দেখেন বিদ্যুতের খুঁটি এনে তার বাড়ির পাশে স্থাপন করা হচ্ছে। পরে খুব সহজেই তিনি বিদ্যুত সংযোগ পান।

পল্লী বিদ্যুতের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের স্বত্ত্বাধিকারী আব্দুল্লাহ আসিফ খান শেলী জানান, বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকী উপলক্ষে টাঙ্গাইলকে শতভাগ বিদ্যুতায়নের আওতায় আনতে পল্লী বিদ্যুত সমিতি ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহন করেছে। তারা দিন-রাত নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। নতুন লাইন নির্মাণ, পুরাতন লাইন মেরামতসহ গ্রাহক সেবাকে লক্ষ রেখে তারা কাজ করছেন।

টাঙ্গাইল পল্লী বিদ্যুত সমিতির এজিএম(গ্রাহক সেবা) আমিনুল ইসলাম আনু জানান, টাঙ্গাইল জেলার একদিকে পাহাড় ও জঙ্গলবেষ্ঠিত; অপরদিকে যমুনা, ধলেশ্বরীসহ কয়েকটি নদীর বিস্তীর্ন চরাঞ্চল। গ্রাহক সেবার দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে তিনি প্রতিটি গ্রামের সকল গ্রাহককে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ও হয়রানিমুক্তভাবে বিদ্যুত সেবা দিতে চেষ্টা করছেন। তিনি জানান, আবেদনের একদিনের মধ্যে অসংখ্য গ্রাহককে বিদ্যুত সংযোগ দেওয়া হয়েছে। অনেক হতদরিদ্র ও প্রতিবন্ধী পরিবারকে বিনামূল্যে বিদ্যুত সংযোগ দেওয়া হয়েছে।

টাঙ্গাইল পল্লী বিদ্যুত সমিতির জেনারেল ম্যানেজার রাম শংকর রায় জানান, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগ, ঘরে ঘরে বিদ্যুত’ এ স্লোগানে বর্তমান সরকারের ভিশন বাস্তবায়ন ও ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে বিদ্যুত বিভাগকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মঈন উদ্দিন(অব.)- এর নির্দেশনা অনুযায়ী বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকী উপলক্ষে টাঙ্গাইল পল্লী বিদ্যুত সমিতির আওতাধীন সকল উপজেলার প্রতিটি গ্রামকে বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এ বিভাগের আরো সংবাদ
Share via
Copy link
Powered by Social Snap