আজ ৩১শে আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৬ই অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

ঢাকা-টাংগাইল মহাসড়কে দুর্ধর্ষ অপহরণকারী চক্রের তৎপরতা বাড়ছে

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ রাত যত গভীর হয়, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে দুর্ধর্ষ অপহরণকারী চক্রের সদস্যদের তৎপরতা ততই বেড়ে যায়। এ মহাসড়কের নির্জন স্থানে কোনো পথচারীকে একা পেলেই অস্ত্রের মুখে অপহরণ করে এ চক্র। পরে তাদের নিরাপদ স্থানে নিয়ে পরিবারের কাছে বিকাশের মাধ্যমে মুক্তিপণের টাকা আদায় করে।

বুধবার রাতে এ মহাসড়কের ফ্লাইওভারের ওপর থেকে খোকন নামের এক পথচারীকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের সময় গাজীপুরের কোনাবাড়ী থানা পুলিশ এ চক্রের দুই সদস্যকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে। তারা হলো জামালপুরের বকশীগঞ্জের নিলক্ষীয়া গ্রামের রাশেদ মিয়া ও শরীয়তপুরের নড়িয়া থানার পন্ডিতসার গ্রামের ইমরান হোসেন। রাশেদ কোনাবাড়ী এলাকার দক্ষিণ জরুন ডেল্টা গার্মেন্টের পাশের একটি বাড়িতে আর ইমরান একই এলাকার আমরাগ মিতালী ক্লাবের পাশে ইসমাইল হোসেনের বাড়ির ভাড়াটিয়া।

পুলিশ ও ভুক্তভোগীরা জানান, বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে খোকন মিয়া আমবাগ এলাকায় আসার জন্য মহাসড়ক দিয়ে হাঁটতে ছিলেন। এ সময় রাশেদ মিয়া তার পেছন থেকে এসে চড়-থাপ্পড় মারতে থাকে। অন্য অপহরণকারী ইমরান একটি মোটরসাইকেল নিয়ে তাদের কাছে চলে আসে। পরে তারা খোকনকে জোর করে মোটরসাইকেলে তুলে টাঙ্গাইলের দিকে নিয়ে যায়। মোটরসাইকেলটি কোনাবাড়ী ফ্লাইওভার ব্রিজের ওপর থামিয়ে খোকনের পরিবারের কাছে মোবাইল ফোনে ২০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করে তারা। পরিবারের সদস্যরা টাকা দিতে পারবেন না বলে জানালে দুইঅপহরণকারী তাকে ফ্লাইওভারের ওপর থেকে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় খোকনের চিৎকারে টহলরত কোনাবাড়ী পুলিশের একটি টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে। ওই দুই অপহরণকারী পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে।

পুলিশ পরে গ্রেপ্তারকৃতদের কোনাবাড়ী থানায় নিয়ে যায়। এ ঘটনায় খোকন বাদী হয়ে অপহরণ মামলা করেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দুর্ধর্ষ অপহরণকারীরা পুলিশকে জানায়, তারা গাজীপুরের চৌরাস্তা বাইপাস এলাকা থেকে কালিয়াকৈরের চন্দ্রা ত্রিমোড় পর্যন্ত গত এক মাসে অর্ধশতাধিক পথচারীকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় করেছে। তাদের বিরুদ্ধে জয়দেবপুরসহ বিভিন্ন থানায় আটটি অপহরণ, চাঁদাবাজি ও নারী নির্যাতনের মামলা রয়েছে।

পুলিশ জানায়, এ অপহরণকারী চক্রে আরও সদস্য আছে। তাদের

গ্রেপ্তার করার চেষ্টা করা হচ্ছে। গ্রেপ্তার রাশেদ একজন দুর্ধর্ষ অপহরণকারী। তার বিরুদ্ধে সাত-আটটি মামলা আছে বলে জানান কোনাবাড়ী থানার ওসি (তদন্ত) আব্দুল মালেক খসরু। রাশেদ ও ইমরানকে রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এ বিভাগের আরো সংবাদ