February 25, 2021, 1:48 pm

ঘাটাইলে তিন স্কুলছাত্রী ধর্ষণ মামলায় দশ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল

বিশেষ প্রতিনিধিঃ টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে ‘তিন স্কুলছাত্রী সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হওয়া’চাঞ্চল্যকর মামলার অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করেছে পুলিশ। ঘটনার এক বছর পর তদন্ত কাজ শেষে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গত ৩০ জানুয়ারি টাঙ্গাইলের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে ১০ জনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র দাখিল করেন (অভিযোগ পত্র নং ০৯, তারিখ : ৩১.০১.২০২১খ্রি.)। অভিযুক্তদের মধ্যে ৭ আসামিকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। যারা জেল হাজতে রয়েছেন, বাকি তিন আসামির মধ্যে একজন মৃত্যুবরণ করেছে। অপর দুই আসামিকে পলাতক দেখানো হয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০২০ সালের ২৬ জানুয়ারি স্থানীয় একটি স্কুলের চার ছাত্রী সকালে স্কুল থেকে উপজেলার পাহাড়ি এলাকা সাতকুয়ায় বেড়াতে যায়। ওই দিন দুপুরে কয়েকজন যুবকের একটি দল তাদের জোরপূর্বক বনের ভেতর নিয়ে যায়। ছাত্রীদের একজনকে আটকে রেখে তার সামনেই অপর তিনজনকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। পরে তাদের বনের ভেতর ছেড়ে দেওয়া হয়। স্থানীয় এক অটোচালক ওই দিন সন্ধ্যারাতে জঙ্গল থেকে তাদের উদ্ধার করে স্থানীয় কুশারিয়া বাজারে নিয়ে আসে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ সেখান থেকে তাদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

২৭ জানুয়ারি নির্যাতিত এক ছাত্রীর অভিভাবক আবুল কালাম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা পাঁচ-ছয়জনকে আসামি করে ঘাটাইল থানায় মামলা করেন (মামলা নম্বর-১২, তারিখ-২৭.০১.২০২০খ্রি.)।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ঘাটাইল থানার ইন্সপেক্টর তদন্ত মো. সাইফুল ইসলাম জানান, ঘটনার পর টাঙ্গাইলের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে ২২ ধারায় জবানবন্দি দেয় ধর্ষণের শিকার তিন শিক্ষার্থী। পুলিশ অভিযান চালিয়ে ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে বিভিন্ন সময় সাতজনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতদের চারজন আদালতে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে।পুলিশ অভিযান চালিয়ে ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে বিভিন্ন সময় সাতজনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতদের চারজন আদালতে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। গ্রেফতারকৃতদের দেওয়া জবানবন্দি অনুসারে ১০ জন ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিল বলে শনাক্ত করে পুলিশ।

অভিযুক্তরা হল- জাহিদুল ইসলাম (২০), রাসেল মিয়া (২২), কবীর হোসেন (৩০), বাবুল (২১), ইউছুব মিয়া (২৭), বাবলু মিয়া (২৬), সবুজ বাবু (৩০), আরিফ হোসেন (৩২), শাহীন মিয়া (৩০) এবং শান্ত (১৩)। এদের সবার বাড়ি উপজেলার সন্ধানপুর, চানতারা-সহ বিভিন্ন গ্রামে। এদের মধ্যে আরিফ হোসেন ও শান্ত পলাতক রয়েছে। অভিযুক্ত শাহীন মিয়া পার্শ্ববর্তী মধুপুর উপজেলার চাপড়ি এলাকায় অটোরিকশা ছিনতাই করতে গিয়ে গণপিটুনিতে মারা যায়। অভিযুক্ত শান্ত শিশু হওয়ায় তার বিরুদ্ধে শিশু আইনে আলাদা অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আরো জানান, মহামারি করোনার কারণে এবং আসামিদের ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফল পেতে বিলম্ব হওয়ায় অভিযোগ পত্র দাখিলে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এ বিভাগের আরো সংবাদ
Share via
Copy link
Powered by Social Snap