আজ ৭ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২০শে এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

প্রতিদিন পোড়ানো হচ্ছে প্রায় ৫ হাজার মণ কাঠ, প্রাকৃতিক পরিবেশ বিপন্ন,ঘাটাইলে ফসলি জমির উপর ৬৮ ইটভাটার ৪৩টিই লাইসেন্স বিহীন

বিশেষ প্রতিনিধিঃ ঘাটাইলে ফসলি জমির উপর স্থাপন করা হয়েছে প্রায় অর্ধশত ইটভাটা। এখানে প্রতিদিন গড়ে ৫ হাজার মণ বনের কাঠ পোুড়ানো হচ্ছে। এতে করে বনের কাঠ উজাড় হচ্ছে, ফসল উৎপাদন হ্রাস পাচ্ছে,রাস্তা-ঘাট ভেঙেচুরে একাকার হচ্ছে এবং পরিবেশ চরম হুমকিম সম্মুখিন হয়ে পড়ছে। সরকারি নিয়ম নীতি ও প্রচলিত বিধি-বিধানকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ঘাটাইলের চানতারা,সিঙ্গুরিয়া,জামুরিয়া,ধলাপাড়া,রসুলপুর,সন্ধানপুর,দেউলাবাড়ী, দেওপাড়া ও সদর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ফসলি জমির মাঝখানে স্থাপন করা হয়েছে এসব অবৈধ ইটভাটা। ইটভাটার চারদিকে রয়েছে ধান,গম ও শাকসবজির বাগান এবং অসংখ্য ঘরবাড়ি। বিশেষ করে উপজেলার আমতলী নামক স্থান থেকে ধলাপড়া পর্যন্ত এই ছয় কিলেমিটার পাকা রাস্তার দুই পাশের জন বসতিপুর্ণ গ্রামগুলোর ভিতর দিয়ে স্থাপিত হয়েছে বার থেকে পনেরটি ইটভাটা। ইটভাটার নির্গত কালো ধোওয়া থেকে নির্গত কাবর্নডাই অক্সাইডে ঘাটাইলের প্রাকৃতিক পরিবেশ হুমকির সন্মুখীন। এভাবে যত্র তত্র ইটভাটা গজিয়ে ওঠার ফলে প্রতি বছর কমছে আবাদি জমি। জানা গেছে, প্রতিটি ইটভাটায় গড়ে ছয় থেকে দশ একর জমির প্রয়োজন হয় সেই হিসাবে উপজেলার ৬৮টি ইটভাটা গ্রাস করেছে প্রায় সাড়ে পাঁচশত একর ফসলি জমি।কোনাবাড়ি,পেচার হাট,বিলজলঙ্গি,মাটিআটা,মেধার,রঘুনাথপুর সহ প্রায় এক ডজন গ্রাম সরেজমিন ঘুরে জানা যায়,তাদের প্রাকৃতিক পরিবেশের উপর ইটভাটার প্রভাবের কথা।

কোনাবাড়ি গ্রামের কৃষক আব্দুল গনি মিয়া জানান, ইটভাটার কালো ধোওয়ার প্রভাবে আমাদের ধানি জমিতে ধানের উৎপাদন কমে গেছে, লাউ,শিম গাছে লাউ শিম ধরেনা। ছোট ছোট বাচ্চাদের এলার্জি জাতীয় রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পাচ্ছে। সরকারি নীতিমালায় রয়েছে ইটভাটার এক কিলোমিটারের মধ্যে কোন আবাদি জমি ও ঘরবাড়ি থাকতে পারবে না। কিন্ত সে নিয়মের তোয়াক্কা না করেই বেআইনি ভাবে গড়ে তোলা হয় এসব ইটভাটা। আর প্রশাসনের নাকের ডগায় এসব নতুন অবৈধ ইটভাটা নির্মাণ হলেও দেখার কেউ নেই। স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছেন , সকল রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতা থেকে শুরু করে বিট অফিসার,রেঞ্জ কর্মকর্তা,পুলিশ এবং প্রশাসনের কর্মকর্তা ম্যানেজ করে চালিয়ে যাচ্ছে এসব ইটভাটা। ইট পোড়ানো নিয়ন্ত্রন অইন ১৯৮৯ এবং ২০০১ সালের সংশোধিত আইন অনুযায়ি সরকারি লাইসেন্স গ্রহন ব্যতীত ইটভাটা স্থাপন,ইট তৈরি , ইট পোড়ানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া লাইসেন্সের জন্য জেলা প্রশাসক বরাবর নির্ধারিত ফি প্রধান সাপেক্ষে আবেদনের পর এডিসির নেতৃত্বে পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকতা , উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকতা ও সংশি¬ষ্ট ইউপি চেয়ারম্যনকে নিয়ে গঠিত তদন্ত কমিটি সরেজমিনে তদন্ত সাপেক্ষে সন্তোষজনক প্রতিবেদন দাখিলের পর জেলা প্রশাসক কর্তৃক লাইসেন্স ইস্যু হলে ইটভাটা স্থাপন সংক্রান্ত কার্যক্রম শুরুর নির্দেশ রেেয়ছে। তাছাড়া এ আইন ৫ধারায় সংরক্ষিত ,হুকুম দখল বা অধিগ্রহনকৃত বা সরকারের কাছে ন্যস্ত আবাদি জমি, পৌরসভা ,সিটি করপোরেশন , আবাসিক এলাকা এবং ফসল বাগান থেকে এক কি.মি.এর মধ্যে কোনা ইটভাটা স্থাপনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। ঘাটাইলে এইসব ভাটার চারপাশে শতশত বসতবাড়ি অর্ধশতাধিক ফলদ বাগান রয়েছে। বেশির ভাগ ইটভাটার ইট পোড়ানো চিমনির ৫০ গজের পরই আবাদি ধানি জমি। ঘাটাইল উপজেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ি ১৩টি ইটভাটা বন্ধ রয়েছে। ১২টির লাইসেন্স রয়েছে,৪৩টির লাইসেন্স নেই। পরিবেশ অধিদপ্তরের বিশেষ টিম গত ১৫ ফেব্র“য়ারি ৭টি ইটভাটার মালিককে প্রায় অর্ধকোটি টাকা জরিমানা আদায় করছে। এবং বেশ কয়েকটি ইটভাটা গুড়িয়ে দিয়েছে। টাঙ্গাইল পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোজাহিদুল ইসলঅম বলেন,আমাদের অভিযান চলমান থাকবে। জেলা ইটভাটা মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেন ধলা বলেন,অনেকেই লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেছে,অনেকেই ভোগান্তির কারণে আবেদন করতে আগ্রহী নন। ইটভাটা স্থাপন বিষয়ে ঘাটাইল উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা অঞ্জন কুমার সরকার ‘নয়া দিগন্ত’কে বলেন,অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। নতুন করে আর অবৈধ ভাটা স্থাপন না করতে পারে সে ব্যপারে আমরা সজাগ দৃষ্টি রাখছি। বৃক্ষ প্রেমিক চাষা আব্দুল আজিজ কোম্পানি বলেন, এসব ইটভাটার কারনে লেবু কমলা ও আম সহ অসংখ্য ফল গাছে ফল ও ফুল ঝরে যায়। এ সব যত্রতত্র ব্যাঙের ছাতার মত গজিয়ে ওঠার ফলে ,শতশত বিঘা জমির লেবু,কলা ও ধানের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। অপর দিকে ইট তৈরির মাটি ও ইটবাহী ট্রাকের বেপরোয়া যাতায়াতের ফলে অনেক পাকা রাস্তা ভেঙে যাচ্ছে। ছবি: ১। অভিযানের সময় ২। অভিযানের ১সপ্তাহ পরে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এ বিভাগের আরো সংবাদ
Share via
Copy link
Powered by Social Snap