আজ ২৩শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ৬ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

করোনায় সখিপুরে পার্লার কর্মীদের দুর্বিসহ জীবনযাপন

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ  বৈশ্বিক মহামারি করোনার প্রভাবে নেই বিয়ের ধুমধাম আয়োজন। গণজমায়েত করে জন্মদিন বা পার্টিও হচ্ছে না সরকারি নিষেধাজ্ঞার কারণে। করোনার থাবায় সখীপুর উপজেলায় গড়ে ওঠা  ৩০টি পার্লার ব্যবসায়ী দুর্বিসহ জীবন যাপন করছেন। দীর্ঘ লকডাউন কাটিয়ে পার্লার খুললেও নেই সাজবিলাসী নারীদের আনাগোনা। এক ঈদ কাটিয়ে আরেক ঈদ দরজায় কড়া নাড়লেও বেকার সময় কাটাচ্ছেন বিউটিশিয়ানরা। ফলে উপার্জন বন্ধ থাকায় স্বল্প পুঁজি নিয়ে নারী সৌন্দর্যের পার্লার ব্যবসায় মনোনিবেশ করা নারী উদ্যোক্তাদের পথে বসার উপক্রম হয়েছে। ব্যবসায় মন্দা হলেও খরচ কমেনি তাদের। বিদ্যুৎ বিল, কর্মচারীদের বেতন ও ঘর ভাড়া দিতে হচ্ছে যথা নিয়মেই। অথচ এ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের দুঃসময়ে পাশে দাঁড়ায়নি সরকারি-বেসরকারি কোন সংস্থা। বাড়িয়ে দেয়নি সহায়তার হাত। ফলে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানববেতর জীবন যাপন করতে হচ্ছে তাদের। অনেকেই আবার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন পেশা পরিবর্তনের। দেশের চরম এই সংকটময় মুহূর্তে সরকারি সহায়তাই এ পার্লার শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে পারে বলে মনে করেন ওইসব উদ্যোক্তারা।

খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, পৌর শহরসহ উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের বিভিন্ন বাজারে  গড়ে উঠেছে ছোট বড় প্রায় ৩০ টি বিউটি পার্লার । কেউ নিজস্ব আবার কেউ ভাড়া করা ঘরে খুলে বসেছেন নারী সৌন্দর্য ফুটিয়ে তোলার এ প্রতিষ্ঠান। এনজিও কিংবা ব্যাংক ঋণ নিয়ে তারা সাধ্যের মধ্যে সাজিয়ে গুছিয়ে নিয়েছেন নিজেদের এ ক্ষুদ্র ব্যবসা। এ নিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর পরিকল্পনাও করেছেন অনেকে। তবে দীর্ঘদিনের এ বৈশ্বিক মহামারি করোনা তাদের সেই স্বপ্নকে ভেঙে দিয়েছে। করোনা প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে সকল সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ন্যায় বন্ধ রাখা হয় পার্লারগুলোও। সরকারি নিয়ম মেনেই দীর্ঘ সময় পরে আবার শুরু করা হয় ব্যবসায়িক কার্যক্রম। কিন্তু আগের মতো গ্রাহক পাচ্ছে না প্রতিষ্ঠানগুলো। প্রতিষ্ঠান খুললেও সকাল-বিকাল অলস সময় পার করতে হচ্ছে কর্মীদের।সরেজমিনে  পার্লারগুলো গিয়ে  দেখাগেছে, ব্যবসায়ী এবং বিউটিশিয়ানদের দুরবস্থার করুণ এ চিত্র।

এ ব্যাপারে  বিউটিশিয়ান পামেলা দ্রং ও বেলী নকড়েক, আকলিমা ও বৃষ্টি আক্তার বলেন, লকডাউনের কারণে পার্লার বন্ধ থাকায় অনেক লোকসান হয়েছে। দীর্ঘ দিন পরে পার্লার খুললেও মেয়েরা সাজতে আসছেন না। তার উপর এখন বিবাহ কিংবা জমকালো পার্টিও হচ্ছে না। তাই পার্লারেও কাজ হচ্ছে না।

উপজেলার নলুয়া দেওয়ান মার্কেটে গড়ে ওঠা ফ্যাশন এন্ড বিউটি পার্লারের মালিক রত্না আক্তার বায়লা বলেন, কাস্টমার না আসলেও প্রতিদিন পূর্বের নিয়মেই পার্লার খোলা রাখা হচ্ছে। তাই কাজ না হলেও মাস শেষে ঘর ভাড়া, বিদ্যুৎ বিল দিতেই হচ্ছে। এখন এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে যে পার্লার ব্যবসা টিকিয়ে রাখাটাই দুষ্কর হয়ে দাঁড়িয়েছে। বছর পেরিয়ে এভাবে চললেও কোন সাহায্য সহযোগিতা পাচ্ছেন না বলে দাবি করেছেন উপজেলার অধিকাংশ পার্লার ব্যবসায়ী।

সখীপুর পাইলট বালিকা বিদ্যালয় মার্কেটের ছোঁয়া বিউটি পার্লারের মালিক রওশন আরা রিতা বলেন, কাজ না হলেও ব্যয় নিয়মিতই হচ্ছে। তবে আমার জানামতে কোন পার্লার মালিক কিংবা বিউটিশিয়ানরা কোন ধরনের সাহায্য সহযোগিতা পাননি। এই মুহূর্তে ব্যবসায়ীরা সরকারি সহায়তা না পেলে অনেকের পার্লার ব্যবসাই গুটিয়ে নিতে হবে। তিনি আরো বলেন, আমাদের সংগঠন নেই। ইতিপূর্বে সংগঠন করার উদ্যোগ নিয়েছিলাম। কিন্তু অনেকের কাছ থেকে এ ব্যাপারে সাড়া পাইনি। তাই শেষ পর্যন্ত সংগঠন করা হয়নি। সংগঠন থাকলে ওই সংগঠনের ব্যানারে যেসব ব্যবসায়ী বা বিউটিশিয়ান দুরবস্থায় আছেন তাদের জন্য কিছু করার চেষ্টা করা যেতো।

তিনি বলেন, করোনার মধ্যে পার্লার কার্যক্রম চালু রাখার জন্য আমরা সকল ধরনের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলছি। পার্লার কর্মীদের জন্য পিপিই, মাস্ক এবং হ্যান্ড স্যানিটাইজারসহ সকল ধরনের সুরক্ষা সামগ্রীর ব্যবস্থা করে রেখেছি। সকল আয়োজন থাকা সত্ত্বেও পার্লারে ক্রেতা আসছেন না। যার ফলে পার্লার ব্যবসায়ীদের আয় উপার্যনের পথ  প্রায় বন্ধ হওয়ার পর্যায়ে উপনিত হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সরকারি বা বেসরকারি সংস্থা থেকে সহায়তা পেলে পার্লার ব্যবসায়ীরা তাদের দূর্বিসহ জীবন যাপন থেকে  নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর মনোবল পাবে  বলে মনে করেন এই বিউটিশিয়ান।

এ ব্যাপারে  উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)চিত্রা শিকারী  বলেন, সরকারি কোন বরাদ্দ না থাকায় এদের জন্য কোন প্রকার সহযোগিতা করতে পারছিনা। তিনি  সুযোগ আসলে পার্লার ব্যবসায়ী ও বিউটিশিয়ানদের জন্য সহযোগিতার চেষ্টা করবেন বলে আশ্বাস দেন ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এ বিভাগের আরো সংবাদ