আজ ৩১শে আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৬ই অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

সখিপুরে কলেজ স্থানান্তরের প্রতিবাদে জমিদাতাদের মানববন্ধন

সখীপুর প্রতিনিধিঃ টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার ভুয়াইদ টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট অ্যান্ড বিএম কলেজটি অধ্যক্ষের শ্বশুরবাড়ি ঘেঁসে স্থানান্তরিত হচ্ছে- এমন খবরে এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। কলেজটি যাতে অন্যত্র স্থানান্তরিত না হয় এজন্য ওই কলেজের ২৭জন জমিদাতা প্রতিবাদ জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে ওই কলেজের ফটকে দাঁড়িয়ে তাঁরা প্রতিবাদ করেন। জমিদাতা শাহীন মিয়া বলেন, ‘প্রয়োজনে আমরা জীবন দিয়ে দেব, তবুও আমরা কলেজটি অন্যত্র স্থানান্তরিত হতে দেব না।’

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, ২০১০ সালে উপজেলার কাঁকড়াজান ইউনিয়নের ভুয়াইদ বাজারে কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের আওতায় ভুয়াইদ টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট অ্যান্ড বিএম কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়। ওই গ্রামের শামসুল হক নামের এক ব্যক্তি কলেজটি প্রতিষ্ঠা করেন। শুরুতেই কলেজের অধ্যক্ষের দায়িত্ব পান শামসুল হকের জামাতা মেহেদী হাসান। কলেজে বর্তমানে ৩২জন জমিদাতা রয়েছে। সম্প্রতি ওই কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষের শ্বশুর শামসুল হক তাঁর বাড়ি সংলগ্ন ৫০ শতক জমি কলেজের নামে লিখে দিয়েছেন। বর্তমানে কলেজটি যে স্থানে রয়েছে সেখান থেকে অধ্যক্ষের শ্বশুরবাড়ির দূরত্ব আনুমানিক ৫০০মিটার। কলেজের অধ্যক্ষ কলেজটি সরিয়ে তাঁর শ্বশুরবাড়ি নিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। ইতিমধ্যে নতুন ওই জমিতে মাটি ফেলে ভরাট করার কাজ চলছে। কলেজ অন্যত্র সরানোর প্রতিবাদে আজ বৃহস্পতিবার ২৭জন জমিদাতা কলেজ ফটকে এসে বিক্ষোভ করেন।

জমিদাতা মোহাম্মদ আলী, আবদুল মান্নান শিকদার, আবদুল বারেক শিকদার বলেন, আমরা বাজারের পাশে মূল্যমান জমি কিনে ওই কলেজের নামে লিখে দিয়েছি। কলেজটি অধ্যক্ষের শ্বশুরবাড়ি নিয়ে যাবে- এটা কিছুতেই মেনে নেওয়া হবে না। প্রয়োজনে আমরা মানববন্ধনসহ কঠোর কর্মসূচি হাতে নেব।

কলেজের ইংরেজি বিষয়ের প্রভাষক রফিকুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে কলেজটি প্রতিষ্ঠার ১১ বছর ধরে একটি বাজারের জনবহুল স্থানে রয়েছেন। অন্যদিকে এখন যেখানে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে সেখানে মানুষের কোনো জনসমাগম নেই। এমনিতেই অধ্যক্ষ স্বৈাচারীভাবে ক্ষমতা চালাচ্ছেন। এখন কলেজটি অধ্যক্ষের শ্বশুরবাড়ি গেলে প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষ মিলেমিশে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি করবে। আমরা শিক্ষকরা প্রতিবাদও করতে পারবো না।

কলেজের প্রতিষ্ঠাতা শামসুল হক বলেন, ১১ বছর ধরে ওই কলেজটি যত উন্নয়ন হয়েছে তা আমার হাত ধরেই হয়েছে। বর্তমানে যেখানে কলেজটি রয়েছে সে জমি ভেজাল। এ জমি এখনো নামজারি হয়নি। ফলে ওই জমিতে কলেজ থাকলে কলেজটি এমপিওভূক্ত হবে না। তাই কলেজটির ভবিষতের কথা ভেবে কয়েকমাস আগে আমার বাড়ি ঘেঁসে ৫০ শতক অখন্ড জমি কলেজের নামে লিখে দিয়েছি। তাই ওই স্থান থেকে আমার বাড়ির পাশে কলেজটি স্থানান্তরের জন্য বোর্ডের অনুমতি নেওয়া হয়েছে।

কলেজের অধ্যক্ষ মেহেদী হাসান বলেন, কলেজের নামে অনেক জমিই আছে তবে সে জমির নামজারি করা সম্ভব হয়নি। সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে নামজারিকৃত ৫০ শতক অখন্ড ভূমি থাকতে হবে। তা নাহলে কলেজটি এমপিওভূক্ত হবে না। এ কারণেই কলেজটি স্থানান্তর করার চেষ্টা চলছে। এ বিষয়ে কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান মহোদয়ের অনুমতিও নেওয়া হয়েছে।

কলেজ পরিচালনা পরিষদের সভাপতি ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মনসুর আহমেদ বলেন, আমি এক বছরের বেশি সময় ধরে ওই কলেজের সভাপতির পদে রয়েছি। কলেজটি স্থানান্তর হচ্ছে বলেও শুনছি। তবে এ বিষয়ে কলেজ পরিচালনা কমিটির কোনো সভায় এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

এ প্রসঙ্গে কলেজের অধ্যক্ষ মেহেদী হাসান বলেন, কলেজ স্থানান্তর হচ্ছে না তবে কলেজের ক্যাম্পাস স্থানান্তর হচ্ছে। এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে কলেজ কমিটির কোনো সভা করে অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন নেই।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মফিজুল ইসলাম বলেন, কলেজটি স্থানান্তর করতে হলে অবশ্যই কমিটির রেজুলেশন করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। অধ্যক্ষ একা সিদ্ধান্ত নিলে সেটা বৈধ হবে না। শিগগিরই ওই কলেজের অধ্যক্ষকে ডেকে এর জবাব চাওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এ বিভাগের আরো সংবাদ