আজ ২৩শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ৬ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

ঘাটাইলের লক্ষিন্দর ইউনিয়নে দেশীয় অস্ত্রের ঝনঝনানীতে একাব্বর আলী চেয়ারম্যান

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ ভূমি খেকো একাব্বর আলী চেয়ারম্যান’র কবল থেকে রক্ষা পাচ্ছেনা শত বছরের ভোগদখলকারী জমির প্রকৃত মালিকগণ। যেখানে সুযোগ পাচ্ছে সেখানেই তান্ডবলীলা চালাচ্ছে একাব্বর আলী চেয়ারম্যান ও তার পৌষ্যবাহিনী।ইতোমধ্যে এমন ভূমিদস্যুতার ঘটনার বেশ কয়েকটি প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে একাব্বর আলী চেয়ারম্যান’র বিরুদ্ধে।এমনো জানা গিয়েছে- ভাইকে ভাইয়ের বিরুদ্ধে, চাচাকে ভাতিজার বিরুদ্ধে, বাবাকে ছেলের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিয়ে দন্ধ সৃষ্টি করে তার পুরো সুফল ভোগ করেছেন একাব্বর আলী চেয়ারম্যান।
স্থানীয় সূত্র জানান, চান মাহমুদ সিকদার ও হাসনাদের মধ্যে পৈতৃক জমিজমা নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে কিছুদিন যাবৎ। সেই বিরোধের মিমাংসা করার কথা বলে একাব্বর আলী চেয়ারম্যান গ্রামীণ সালিসের তারিখ করেও ২বার তারিখ পরিবর্তন করেন এবং একাব্বর আলী চেয়ারম্যানের ঘনিষ্ঠ সহচর বুলবুল তরফদারের মাধ্যমে সর্বশেষ তারিখ করেন আগামীকাল ২৮ এপ্রিল বুধবার সকাল বেলায়।
এ বিষয়ে বুলবুল তরফদারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমিতো একাব্বর আলী চেয়ারম্যান সাহেবের কথা মতই সব করেছি। সালিসি তারিখটাও আমি তার কথাতেই উভয় পক্ষকে জানিয়েদিয়ে ছিলাম। আমি নিজেও জানতাম না সালিসি তারিখের আগেই এমন অপৃতিকর ঘটনা ঘটবে। এখন সবাই আইনের আশ্রয় নিবে শুনতেছি, আইনে যা হয় তাই হয়তো সবার জন্য মঙ্গল হবে।
গোপন সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ এপ্রিল রাত আনুমানিক ১২টার সময় একাব্বর আলী চেয়ারম্যানের বাড়ি এবং খাজনাগড়া (হাসনা মার্কেট) নামক স্থানে পৃথক পৃথক গোপন পরামর্শের মাধ্যমে সিদ্ধান্তক্রমে মঙ্গলবার চেয়ারম্যানের ছেলেকে তার বাহিনী নিয়ে দেশীয় অস্ত্রের ঝনঝনানীতে জমি দখলের জন্য পাঠান এবং চেয়ারম্যান ঘোষণা দিয়ে দেন, যে কোন কিছুর বিনিময়ে হোক ঐ জমিতে আজকেই বাউন্ডারি নির্মাণ চাই আমার।
জানা যায়, ২৭ এপ্রিল মঙ্গলবার দুপুর ১টার সময় টাঙ্গাইল জেলার ঘাটাইল উপজেলার লক্ষিন্দর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান একাব্বর আলীর বড় ছেলে হারুন মিয়া দেশীয় অস্ত্রে সুসজ্জিত তার নিজস্ব বাহিনী নিয়ে স্থানীয় খাজনাগড়া (হাসনা মার্কেট) নামক এলাকায় চান মাহমুদ সিকদারদের পৈতৃক জমিতে অবৈধ ভাবে বেদখল করে বাউন্ডারি করতে গেলে চান মাহমুদ সিকদার ও তার পরিবারের সদস্যদরা এগিয়ে এলে তাদের মেরে আহত করে হারুন মিয়ার বাহিনী।গুরুত্বর আহত অবস্থায় চান মাহমুদ সিকদার ও তার পরিবারের সদস্যদের স্থানীয়রা উদ্ধার করে ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠান।
স্থানীয় পেচারআটার মকবুল হোসেন জানান, এই একাব্বর আলীর বাবা কে?কি তার ইতিহাস? কে ছিলেন তা হয়তো বর্তমানের মানুষ জানেনা,আমরা ঠিকই জানি।সেই কালু’র সন্তান এবং নাতি কেমনে সমাজের ভালো কাজে অংশ নিবে?কেমনে দেশ ও দশের উন্নয়ন করবে?তিনি আরো বলেন, এই একাব্বর আলী চেয়ারম্যান সরকারি জমি ও বনের কাঠ চুরির দায়ে জেলও খেটেছেন অনেক আগেই। এখন চেয়ারম্যান হয়ে প্রকাশে জমি দখলসহ নানা অপকর্মে লিপ্ত এই একাব্বর আলী চেয়ারম্যান।এর বিরুদ্ধে আওয়ামীলীগের উর্ধতন নেতারা সুদৃষ্টি না দিলে এদের মত কিছু লোকের কারনে ভবিষ্যতে পূর্ব ঘাটাইল আবার বিএনপির ঘাটী হিসেবে পরিনত হবে।
প্রসঙ্গতঃ গত ৩০/০৫/২০২০ইং তারিখে একাব্বর আলী চেয়ারম্যান ও তার ছেলে একইভাবে দেশীয় অস্ত্রের ঝনঝনানীতে স্থানীয় মুরাইদ (চাকপাড়া) গ্রামের  নূর মোহাম্মদ’র ভূমি বেদখল করে। ঐ দিনই জমির পার্শবর্তী মুদি দোকানদার আঃ খালেকের দোকানের সামনে বাঙালী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষের ছবি টানানোর অপরাধে দোকান ভাঙচুর ও লোট করে একাব্বর বাহিনী।বাদ পরেনি বঙ্গবন্ধু ও উন্নয়নের রোল মডেল, মমতাময়ী প্রধানমন্ত্রী মাননীয় শেখ হাসিনার ছবি।দেশীয় অস্ত্রের কুপে অস্তিত্বহীন হয়ে পরে খালেকের দোকান ও দোকানে থাকা ছবি গুলো।সে ঘটনার কোন সুস্থ তদন্ত আজও হয়নি। দেশীয় অস্ত্রহাতে চেয়ারম্যানসহ তার ছেলে এবং তাদের বাহিনীর বেদখলের ভিডিও বহুল আলোচিত হলেও আজও নূর মোহাম্মদ ও তার পরিবার কেউ সে জমির সুরাহা পাননি। প্রশাসনও কোন ব্যবস্থা নেননি।
খবর পেয়ে সাগরদিঘী তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্হিতি নিয়ন্ত্রনে এনেছে। আহতদের কয়েকজনের অবস্থা আশংকা জনক বলে জানা গিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এ বিভাগের আরো সংবাদ