আজ ৮ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২২শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

মুখে মাস্ক পড়লে ফাঁপর করে মনে হয় দম বন্ধ হয়ে যাচ্ছে

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ হাট-বাজারগুলোতে গিজ গিজ করছে মানুষ আর মানুষ। একজন আরেকজনের গা ঘেঁষে দাঁড়িয়েছে। কেউ দরদাম করছেন, কেউ পণ্য কেনার জন্য এদিক-সেদিক ঘোরাঘুরি করছে।
বাজার করতে আসা এদের অধিকাংশ লোকের মুখে মাস্ক নেই। আবার মাস্ক থাকলে পকেটে, থুতনিতে, নাকের নিচে পড়ে আছেন। সরকার ঘোষিত সামাজিক দূরত্বের নির্দেশনা তোয়াক্কা না করে ঝুঁকি নিয়ে চলছে কেনা-বেচা।
শুক্রবার টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার নিকরাইল হাটের দুপুর ৩টার দৃশ্য ছিল এটি। জানা গেছে, উপজেলায় ৯টি হাটসহ অর্ধশতাধিকের মতো বেশি ছোট-বড় বাজার রয়েছে। তারমধ্য তৃতীয় বৃহত্তম হাট নিকরাইল। প্রতি মঙ্গলবার ও শুক্রবার এ হাট বসে। বাকি পাঁচ দিন বসে বাজার। এ হাটে আশপাশের বিভিন্ন গ্রামের উৎপাদিত শাক-সবজি ও বিভিন্ন ফসল সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়।
সরেজমিন দেখা গেছে, ওই হাটে সব ধরণের দোকান খোলা ছিল। মৌসুমি ফলের দোকান ও মুদিখানার দোকানেও ছিল যথেষ্ট ভিড়। হাটের বিভিন্ন জায়গায় দাঁড়িয়ে অনেকেই খোশ গল্প করছেন। তাঁদের অনেকের মুখে মাস্ক নেই। আলুর ও সবজির বাজার ঘিরে কেনাকাটা করছেন প্রচুর মানুষ। মাছ-মাংসের বাজার, হাঁস-মুরগির বাজারে গিয়ে মনে হলো যেন কেনাকাটার উৎসব চলছে। গা ঘেঁষে হাঁস–মুরগি, মাংস কিনছেন অনেকে।
হাটের পশ্চিম পাশে দাঁড়িয়ে আছেন নিকরাইল ইউনিয়নের এক ইউপি সদস্য। তিনি বলেন, ‘হাটে অনেক লোক। করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার সরকারি নির্দেশনা থাকলেও কেউই তা মানছেন না। আমরা বললেও শুনছেন না। হাটে কার আগে কে কেনাকাটা করে বাড়ি ফিরতে পারে, সেই প্রতিযোগিতা চলছে।’
হাটে সবজি বিক্রি করতে আসা কয়েড়া  গ্রামের কৃষক মহর আলী মুখে মাস্ক ছিল না। মাস্ক পরেননি কেন জানতে চাইলে বলেন, ‘বাবা, মাস্ক তো আছে, কিন্তু পকেটে আছে।  এসময় কথা হয় আব্দুর রহিম নামে এক অটো-ভ্যান চালকের সাথে। তিনি বলেন- রোদেপুড়ে সারাদিন ভ্যান চালাই। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সবজির ক্ষ্যাপ দিচ্ছি। তীব্র রোদ আর গমরে হাঁপিয়ে যাই। মুখে মাস্ক পড়লে ফাঁপর করে। মনে হয় দম বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। তাই মাস্ক পড়েনি। মাস্ক ধনীদের জন্য। আমাদের করোনা ধরবে না।
নিকরাইল হাটের সবজি বাজারে কথা হয় এক শিক্ষকের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘সবকিছু স্বাভাবিক সময়ের মতোই চলছে। কেউ তো সামাজিক দূরত্ব মানছেন না। অনেকে মুখে মাস্কও ব্যবহার করছেন না। ব্যবসায়ীরাও ক্রেতাদের কিছু বলছেন না। হুড়াহুড়ি করে গা ঘেঁষে কেনাকাটা চলছে।’
সবজি ব্যবসায়ী হাফিজুল ইসলাম বলেন, ‘মানুষের মধ্যে তো করোনার কোনো ভয় নেই। হাটে আগের মতোই মানুষের ভিড়। মাস্ক পরলেও তা থুতনিতে নামিয়ে রাখে। আমরা করব কী বলেন? আমাদের কথা তো কেউ কর্ণপাত করছে না। ঠেলাঠেলি করে সবজি কিনতেছে।’
দুপুর ২টার দিকে ওই হাটের একটি চায়ের দোকানে ১৫-২০ জনকে চা পান করতে দেখা যায়। কারোর মুখেই মাস্ক নেই। সোলেমান হোসেন নামের একজন বলেন, ‘মাস্ক তো ব্যাগে আছে। চা খাওয়ার জন্য বসেছি। করোনা নিয়ে গল্পও করছেন তারা। তিনি বলেন- আল্লাহর রহমতে আমাদের মতো গরীব মানুষে করোনা ধরবে না।’
ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কের জোকারচর নামক এক বাসস্ট্যান্ডে ছয় জন যাত্রী তুলছেন ইজিবাইকচালক এমদাদুল হক। মাস্ক ছাড়া যাত্রী তুলছেন কেন? জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ঈদকে সামনে রেখে রাস্তায় মানুষের চাপ বেড়েছে। মানুষ মুখে মাস্ক না পরেই ওঠছে। আমরা চালকরা কি করমু। অন্যরাও তোলে, তাই আমিও তুলছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এ বিভাগের আরো সংবাদ