আজ ৮ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২২শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

ঘাটাইলের ঝড়কা বাজারে দোকানে ৯৪৯ কেজি সরকারি চাল জব্দ

ঘাটাইল প্রতিনিধিঃ টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে শহীদ সালাহউদ্দিন সেনানিবাস সংলগ্ন ঝড়কা বাজারের একটি রেশন বিক্রির দোকান থেকে ৯৪৯ কেজি সরকারি ভিজিডি’র চাল জব্দ করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। সে সময় ভ্রাম্যমাণ আদালত দোকান মালিক জাকির হোসেনকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং সরকারি চাল বিক্রি করতে নিয়ে আসার অপরাধে দুইজনকে ১ মাসের কারাদণ্ড প্রদান করেন।
গতকাল সোমবার (২৪ মে) ঘাটাইলে ঝড়কা বাজারে বেলা ৪টা থেকে সাড়ে ৭টা পর্যন্ত জুরান সিকদারের ছেলে (অবঃ) সার্জেন্ট মোঃ জাকির হোসেনের মালিকানাধীন জাকির রেশন স্টোরে এই অভিযান পরিচালনা করেন ঘাটাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অঞ্জন কুমার সরকার।
জানা যায়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অঞ্জন কুমার সরকার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অঞ্জন কুমার সরকার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারেন ঝরকা বাজারে অবস্থিত জাকির রেশন স্টোরে বিক্রি করার জন্য আনা হয়েছে বিপুল পরিমাণের সরকারি চাল। পরে তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে ঘটনার সত্যতা পেয়ে সেখানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন তিনি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অঞ্জন কুমার সরকার জানান, জাকির হোসেনের রেশন স্টোরে সরকারি ভিজিডি চাল জব্দ করার সময় প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসা করা হলে চাল বিক্রিতা দেওপাড়া ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য মুক্তার হোসেনের ছেলে আপন মিয়া (৩০) ও হানিফার ছেলে তোফায়েল হোসেন (২৮) স্বীকার করেন, তারা ঘাটাইল উপজেলার লক্ষ্মীন্দর ইউনিয়ন পরিষদের সামনে থেকে বিক্রি নিষিদ্ধ সরকারি এই চাল কিনেন। পরবর্তীতে তারা ঝড়কা বাজারে অবস্থিত জাকির হসেনের রেশন ষ্ট্রোরে তা বিক্রির জন্য নিয়ে আসেন। পরে তা জব্দ করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
তিনি আরও বলেন, সে সময় ভ্রাম্যমাণ আদালত রেশন স্টোরের মালিক জাকির হোসেনকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন এবং সরকারি চাল বিক্রেতা আপন মিয়া ও তোফায়েল হোসেনকে ১ মাস করে বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করেন আদালত। পরবর্তীতে আদালতের মাধ্যমে বিক্রি নিষিদ্ধ সরকারি ভিজিডির ১৬ বস্তা চাল জব্দ করে নিয়ে যাওয়া হয় এবং আসামী দুইজনকে ঘাটাইল থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয় বলে তিনি জানান।
জব্দকৃত ৫০ কেজির ১৬ টি বস্তায় প্রায় ৯৪৯ কেজি সরকারি ভিজিডি চাল ছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানান অঞ্জন কুমার সরকার। চাল বিক্রিতারা সরকারি বস্তা পরিবর্তন করে সাধারণ সাদা বস্তা করে তা নিয়ে বিক্রির জন্য আসেন বলেও তিনি সে সময় জানান।
এ বিষয়ে লক্ষ্মীন্দর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান একাব্বর হোসেন, লক্ষ্মীন্দর ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের সামনে থেকে আটককৃতরা ওই চাল কিনেছেন- এমন তথ্য অস্বীকার করে বলেন, আমি সংবাদ পেয়ে ঝরকা ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। আজ সোমবার আমরা প্রথমবারের মতো ৩০ কেজি চালের ১০৩ বস্তা চাল পরিষদের ভবন এলাকায় বিতরণ করেছি। কেউ যদি ওই চাল নিয়ে কোথাও অন্যত্র বিক্রি করে দেয় তাহলে আমাদের কি করার আছে, সে সময় এমন মন্তব্য করেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এ বিভাগের আরো সংবাদ