আজ ২রা আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৬ই জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

মির্জাপুরে প্রাচীন মন্দিরের রাস্তা নিয়ে জটিলতার সমাধান চায় এলাকাবাসী

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার জামুর্কী ইউনিয়নের পাকুল্যা গ্রামের দুই সহোদর ভাই রাম মোহন সাহা ও গৌর মোহন সাহা ১১৯৫ বঙ্গাব্দে শ্রী শ্রী রাধা কাঁলাচাঁদ মন্দিরটি ওই গ্রামেই প্রতিষ্ঠা করেন। মন্দির সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সারাবছরই সনাতন ধর্মের হাজার হাজার অনুসারীরা ধর্মীয় অনুষ্ঠান করে থাকেন এই মন্দিরটিতে। এরপর ১৩৭৬ বঙ্গাব্দে মন্দিরটির ২য় সংস্করণ করা হয়।

পরবর্তীতে ২০১৬ সালে মন্দিরটিকে আরও সৌন্দর্য্যবর্ধন করার জন্য পুনঃনির্মাণের কাজ শুরু করেন। ৫৭ ফিট উঁচু এই মন্দিরটি দেশ-বিদেশের অন্যতম মন্দির হিসেবে পরিচিতি লাভের জন্য ভারতের মুর্শিদাবাদ ও দেশের চারুকলা ইন্সটিটিউট এবং খ্যাতিমান কারুশিল্পীদ্বারা নতুনরূপে নিপুন হাতে কারুকাজ সম্পাদনা করা হয়।

দেশ-বিদেশ থেকে আসা দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করার জন্যই মন্দিরটিতে সোনালী রঙের প্রলেপ দেয়া হয়েছে। যেটি দেখে মনে হয় স্বর্ণ দিয়ে তৈরি। এলাকাবাসীসহ অনেকেই এই মন্দিরটিকে কথিত ‘স্বর্ণ মন্দির’ হিসেবে আখ্যায়িত করে। মন্দিরটির পুনঃনির্মাণে প্রায় এক কোটিরও অধিক টাকা ব্যয় হয়েছে।

মন্দির কমিটির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক তপন শেঠ বলেন, আমাদের এই মন্দিরটি প্রাচীনতম দৃষ্টিনান্দনিক। যদি কোনো দর্শনার্থী অসুস্থ্য হয়ে পড়ে তাহলে তাদের দ্রুত চিকিৎসা সেবার জন্য অ্যাম্বুলেন্সও আমাদের এই মন্দির পর্যন্ত পৌছাতে পারেনা শুধুমাত্র একটি প্রশস্ত রাস্তার জন্য। যদিও ২৮৬ মিটারের ৮ফিট প্রশস্ত একটি রাস্তা স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. একাব্বর হোসেন এম.পির প্রচেষ্টায় করা হচ্ছে তবে সেখানে কিছু জায়গা জটিলতায় রাস্তাটির সম্পূর্ণ কাজ করা সম্ভব হচ্ছেনা।

তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট রাস্তা প্রশস্ত করার জোর দাবি জানাচ্ছি।

মন্দির কমিটির সভাপতি জয়দেব চন্দ্র সাহা বলেন, মন্দির সংলগ্ন নাটমন্দির, আগত ভক্তদের জন্য অতিথিশালা ও পাঠাগার নির্মাণাধীন। নির্মাণাধীন ভবনগুলোর জন্য বেশ অর্থের প্রয়োজন, মন্দির কমিটির তহবিলে সেই পরিমাণ অর্থ না থাকায় তাদের কাজ আটকে রয়েছে।

এজন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ দেশের ধনাঢ্য ব্যক্তিদের সুদৃষ্টি কামনা করে এই মন্দির ও সংশ্লিষ্ট ভবন নির্মাণে সহযোগিতা কামনা করেন।

এ বিষয়ে জামুর্কী ইউপি চেয়ারম্যান আলী এজাজ খান চৌধুরী রুবেল এই প্রতিবেদককে জানান, ওই এলাকাটি ঘনবসতি কাজেই বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটলে সেখানে ফায়ার সার্ভিসের গাড়িসহ কোনো যানবাহনই প্রবেশ করতে পারেনা, যেকারণে অনেকটাই ঝুঁকি রয়ে গেছে।

এছাড়া মন্দিরে প্রবেশের জন্য নতুন একটি রাস্তা তৈরিতে ব্যক্তিমালিকানা জায়গা নিয়ে একটু ঝামেলার সৃষ্টি হয়েছে, সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় বিষয়টি দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এ বিভাগের আরো সংবাদ