আজ ৩১শে আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৬ই অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে সংস্কার কাজ করায় ভূঞাপুরে ২ মাসেই রাস্তায় ধ্বস

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে সংস্কার কাজ করায় কারণে দুই মাসের মধ্যেই টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে টেপিবাড়ি-গোপালপুর ভায়া ফলদা বাজার রাস্তায় কার্পেটিং উঠে গিয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন ওই রাস্তায় চলাচলকৃত যানবাহনের চালক ও পথচারীরা। এতে করে ক্ষোভও প্রকাশ করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।

উপজেলা এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীন ভূঞাপুর টেপিবাড়ি আরঅ্যান্ডএইচ-গোপালপুর ভায়া-ফলদা বাজার ৫ দশমিক ৩৯ কিলোমিটার রাস্তার মেরামতের কাজ পায় নেত্রকোনা জেলার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স শেখ হেমায়েত আলী’। এতে রাস্তা মেরামতের মূল্য ধরা হয় প্রায় ৩ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। পরে ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ভূঞাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক তাহেরুল ইসলাম তোতা কাজটি কিনে নেন।

গত বছরের মে মাসে ওই রাস্তার মেরামতের কাজ শুরু হয়। রাস্তার দুইপাশে এক ফুট করে বাড়ানো এবং বাড়ানো অংশে ৬ ইঞ্চি করে ইটের খোয়া ও পুরনো কার্পেটিং তুলে সেখানে নতুন করে ৪ ইঞ্চি ইটের খোয়া ফেলে রাস্তায় কার্পেটিং করার কথা রয়েছে। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না হওয়ায় পরপর দুইবার কাজের মেয়াদ বাড়ানো হয়। তাতেও কাজ শেষ করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি।

যে স্থানে গত দুই মাস আগে কার্পেটিং করা হয়েছে সে স্থানে কোথাও কোথাও কার্পেটিং উঠে গেছে এবং কয়েকটি স্থান ধসে পড়েছে।

সরেজমিনে টেপিবাড়ি-ফলদা বাজার রাস্তায় গিয়ে দেখা যায়, পাঁচ কিলোমিটার সড়কের প্রায় সাড়ে চার কিলোমিটার রাস্তায় কার্পেটিংয়ের কাজ শেষ করা হয়েছে। তবে কাগজে কলমে যেটুকু কাজ করা হয়েছে বাস্তবে সেই রাস্তার ঝনঝনিয়া ও টেপিবাড়ী উত্তরপাড়া মসজিদের কাছে প্রায় ৩০ মিটার রাস্তা কাজ করা হয়নি। এছাড়া পুরো রাস্তার বেশিরভাগ স্থানে কার্পেটিং উঠে গেছে। কোথাও কোথাও বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়ে রাস্তা ধসে পড়েছে।

ফলদা দিঘুলিয়াপাড়া এলাকার হবিবর রহমান জানান, রাস্তার পুরানো কার্পেটিং তুলে খোয়া ব্যবহার না করে ঢালাই করার কারণে মাত্র দুই মাসের মধ্যেই রাস্তার কার্পেটিং উঠে গেছে।

ছাবিনা বেগম নামে এক নারী জানান, তার বাড়ির সামনে দিয়ে রাস্তার কাজ গত দুই মাস আগে শেষ করা হয়েছে। কিন্তু এরই মধ্যে রাস্তার কয়েকটি স্থানে ধসে গিয়ে চলাচালের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

মাইজবাড়ি এলাকার শহীদুল ইসলাম বলেন, নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে নির্মাণ করা রাস্তা দুই মাসের মধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে করে চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তাদের।

পোলশিয়া গ্রামের হয়দার আলী বলেন, ঠিকাদার আগে নিজের পকেট ভারী করার কারণে নিন্মমানের সামগ্রী দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করেছে। এতে সাধারণ মানুষের চলাচলে অসুবিধা তৈরি হয়েছে।

এদিকে স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, এলজিইডি’র কর্মকর্তারা ঠিকমতো তদারকি না করার কারণে বেশিরভাগ রাস্তারই বেহাল দশা। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিশেষ সুবিধা পাওয়ার কারণেই ঠিকাদাররা দায়সারা ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। এতে করে এলজিইডি প্রতিবছরই বিভিন্ন রাস্তার মেরামতের নাম করে বরাদ্দ আনেন। আবার সেই বরাদ্দের টাকা কর্মকর্তা-ঠিকাদার ভাগবাটোয়ারা করে অর্ধেকের বেশি খেয়ে ফেলেন। এ কারণে রাস্তায় নিন্মমানের কাজ করা হয়।

এ বিষয়ে ঠিকাদার তাহেরুল ইসলাম তোতা জানান, তিনি এখনও ওই রাস্তার কাজের পুরো টাকা পাননি। আর যে স্থানে কাজ করার পর ধসে বা কার্পেটিং উঠে গেছে সেখানে নতুন করে মেরামত করা হবে। তবে নিন্মমানের কোনো সামগ্রী দিয়ে রাস্তার কাজ করা হয়নি।

উপজেলা এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম মণ্ডল জানান, অতিরিক্ত যানবাহন চলার কারণে রাস্তার বিভিন্ন স্থানে কিছু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেই ক্ষতিগ্রস্ত স্থানগুলো ঠিকাদারকে মেরামত করে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। রাস্তার পুরো কাজ শেষ হওয়ার পর ঠিকাদারকে বাকি বিল দেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এ বিভাগের আরো সংবাদ