আজ ৮ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২২শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

ঘাটাইলে বন বিভাগের জমির উপর দালান নির্মান করছেন এলাকার প্রভাবশালীরা

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলায় বনভূমির পরিমাণ ২৫ হাজার ৭৮৫ একর। এর মধ্যে দখল হয়ে গেছে এক হাজার ৯০০ একর। দখলদার রয়েছেন পাঁচ হাজার ৪২১ জন। সম্প্রতি টাঙ্গাইল বন বিভাগের একটি জরিপে এই তথ্য উঠে এসেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়ঘাটাইলে সংরক্ষিত বনভূমি দখল করে ঘরবাড়ি স্থাপন ও দালান নির্মাণ করেছেন এলাকার প্রভাবশালীরা। কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ করেও এর কোনো প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না। অথচ ১৯২৭ সালের সংশোধিত বন আইন এবং ২০১২ সালের বন্য প্রাণী সংরক্ষণ আইন অনুযায়ীসংরক্ষিত বনে যেকোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণ করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

বন বিভাগের সাগরদীঘি বিটের আওতায় ফুলমালিরচালা করিমগঞ্জ এলাকায় গেলে দেখা যায়বন বিভাগের ৫৫৩ নম্বর হাল দাগের জমিতে বহুতল ভবন নির্মিত হচ্ছে। ভবনটি নির্মাণ করছেন এলাকার প্রভাবশালী খোরশেদ আলম। বন বিভাগের ৩০ শতাংশ জায়গা দখল করে ভবনটি নির্মাণ করা হচ্ছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। বিভিন্ন এলাকায় বন বিভাগের জমি দখল করে এভাবে ঘরবাড়ি নির্মাণ করে বসবাস করছেন প্রভাবশালীরা। আবার অনেকে সড়কের পাশে বন বিভাগের জমি দখল করে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন।

এ ছাড়া প্রভাবশালীরা বনের জায়গা দখল করে কলাআনারসলেবুপেঁপেসহ বিভিন্ন ফসলের আবাদ করছেন এবং নিজেদের দখলে রেখেছেন। এ ব্যাপারে টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসকবিভাগীয় বন কর্মকর্তা ও স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এক ব্যক্তি।

স্থানীয়দের অভিযোগবন কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে ভবনঘরবাড়িদোকানপাট নির্মাণের কাজ চলে। কেউ প্রতিবাদ করলে উল্টো বন মামলায় হয়রানির শিকার হতে হয়। সম্প্রতি প্রতিবাদ করতে গিয়ে মামলা ও হয়রানির শিকার হয়েছেন ফুলমালিরচালা গ্রামের গৌরাঙ্গআজহার আলীসহ আরো অনেকে।

অভিযুক্ত খোরশেদ আলম বলেন, ‘চারপাশে বন বিভাগের জমি থাকলেও আমি যে জায়গায় পাকা ভবন নির্মাণ করছিসেই জায়গাটি বন বিভাগের নয়। এর পরও বন বিভাগ আমার বিরুদ্ধে ভূমি জবর দখলের মামলা করছে। এখন আমি বিষয়টি আইনগতভাবেই মোকাবেলা করব।

ধলাপাড়া রেঞ্জ কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘খোরশেদ আলমের নির্মাণাধীন ভবনের কলাম ভেঙে দেওয়া হয়েছে এবং নির্মাণকাজ বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে বন বিভাগের জমি জবরদখল ও ভবন নির্মাণের অভিযোগে মামলা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বন বিভাগের জবরদখল জমি উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এ বিভাগের আরো সংবাদ