আজ ৮ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২২শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

ঘাটাইলে রাসায়নিক দিয়ে পাকানো হচ্ছে কাঁঠাল

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে বেশি লাভের আশায় কাঁচা কাঁঠালে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী মাত্রাতিরিক্ত ইথিফন জাতীয় রাসায়নিক পদার্থ প্রয়োগ করে পাকাচ্ছেন। এই ইথিফনের সঙ্গে মেশানো হচ্ছে লবণ ও পটাশ সার। ফলে কচি কাঁঠালও পেকে যাচ্ছে ২৪ ঘণ্টায়। এতে তৈরি হচ্ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি। আর এসব রাসায়নিক দ্রব্য বিভিন্ন ব্র্যান্ডের নামে হাতের নাগালেই পাওয়া যাচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, চলতি মৌসুমে এরই মধ্যে শুরু হয়েছে কাঁঠাল পাকানোর প্রতিয়োগিতা। স্থানীয়রা এ পদ্ধতিকে বলেন ‘ শিক মারা’। প্রায় দেড় ফুট লম্বা লোহার শিক কাঁঠালের বোঁটা বরাবর ঢুকিয়ে ছিদ্র করে সেখানে সিরিঞ্জ দিয়ে বিষাক্ত ইথিফন প্রয়োগ করা হয় উচ্চমাত্রায়। শুধু শিক নয়, কেউ কেউ আবার স্প্রে করেও বিষ প্রয়োগ করে থাকেন।

পরে একজায়গায় কাঁঠাল স্তূপ আকারে সাজিয়ে পলিথিন দিয়ে মুড়িয়ে চাপা দিয়ে রাখলেই ১৮-২৪ ঘন্টার মধ্যেই একটি কচি কাঁঠাল পেকে মিষ্টি পাকা কাঠালের মতো গন্ধ ছড়ায়। দেখে বুঝার কোন উপায় নেই যে এটি একটি অপরিপক্ক বিষাক্ত কাঁঠাল, যেটাকে কেমিক্যাল দিয়ে পাকানো হয়েছে।

ঘাটাইল ও মধুপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী টাঙ্গাইলের সবচেয়ে বড় কাঁঠালের হাট গারোবাজারসহ উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চল ঘুরে দেখা যায়, বেশি লাভের আশায় অনেকেই অপরিপকস্ফ কাঁঠাল বাজারে আনতে শুরু করেছেন। এসব কাঁঠালে যখন রাসায়নিক পদার্থ প্রয়োগ করে পাকানো হয় তখন এর স্বাদ-গন্ধ নষ্ট হয়ে যায়।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দিলশাদ জাহান বলেন, ১৬ লিটার পানির মধ্যে ৫০ মিলিলিটার ইথিলিন হচ্ছে সহনীয় মাত্রা। এর চেয়ে উচ্চমাত্রায় এ ধরনের পদার্থের ব্যবহার মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর। কিন্তু সরেজমিন দেখা যায়, এক লিটার পানির মধ্যে ১০০ মিলিলিটার ইথিলিন মিশিয়ে তা কাঁঠালে প্রয়োগ করা হচ্ছে।

কুষ্টিয়া, যশোর, রাজশাহীসহ বিভিন্ন অঞ্চলের পাইকাররা গারোবাজারসহ বিভিন্ন বাজারে আসেন কাঁঠাল কিনতে। এক কাঁঠাল ব্যবসায়ী স্বীকার করেন, মৌসুম শুরুর আগেই বেশি লাভের আশায় তারা কাঁঠালে রাসায়নিক দ্রব্য মিশিয়ে থাকেন। ৫০ টাকার একটি কাঁঠাল ঢাকায় দুইশ থেকে আড়াইশ টাকায় বিক্রি করা যায়।

তিনি বলেন, ঢাকা শহরে কেউ কাঁচা কাঁঠাল কিনতে চায় না। সবাই পাকা চায়। তাই সবগুলোতে মেডিসিন দিতেই হয়।

গারোবাজারের কীটনাশক ব্যবসায়ী সরকার ট্রেডার্সের মালিক মুনতাজ সরকার বলেন, ফল পাকানোর জন্য ইথিফনের ব্যবহার সরকারিভাবে নিষেধ। তবে ওই কেমিক্যালের গায়ে লেখা রয়েছে ‘যে কোনো ধরনের ফল আগাম বাহির এবং গাছ বৃদ্ধির জন্য অনুমোদিত’।

মধুপুরের মহিষমারা গ্রামের কৃষক তায়েব আলী জানান, ইথিফনের সঙ্গে লবণ আর পটাশ মেশালে তা ভয়ংকর রূপ ধারণ করে। হাতে বা শরীরের কোথাও লাগলে সঙ্গে সঙ্গে পুড়ে যায়। তিনি আরও বলেন, অপরিপকস্ফ কাঁঠাল এভাবে পাকানোর ফলে মানুষ শুরুতে প্রতারিত হয়ে পরে আর কাঁঠাল কিনতে চায় না।

গারোবাজারের কাঁঠালচাষি জুলহাস উদ্দিন বলেন, এভাবে পাকানোর ফলে নষ্ট হতে চলেছে ঘাটাইলের কাঁঠালের সুনাম। পাশাপাশি কাঁঠালের বাজার হচ্ছে মন্দা এবং ন্যায্যমূল্য হতে আমরা বঞ্চিত হচ্ছি।

গারোবাজার বণিক সমিতির সভাপতি আব্দুস সাত্তার বলেন, কচি কাঁঠালে বিষাক্ত রাসায়নিক দেওয়া ভালো লক্ষণ নয়। এর প্রতিকার হওয়া প্রয়োজন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দিলশাদ জাহান সমকালকে বলেন, ফল পাকানোর জন্য ইথিফন নির্দিষ্ট মাত্রায় ব্যবহার করতে হবে। অতিরিক্ত মাত্রায় ব্যবহারে ফুসফুস, হৃদযন্ত্র এবং কিডনিতে দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা দেখা দিতে পারে।

ইউএনও অঞ্জন কুমার সরকার বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। এখন জানতে পারলাম। অচিরেই এ ধরনের অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এ বিভাগের আরো সংবাদ