আজ ২রা আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৬ই জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

ঘাটাইল-সাগরদীঘি তমালতলা সড়ক উন্নয়ন খোঁড়াখুঁড়ি করে ফেলে রাখা হয়েছে আড়াই বছর ধরে,জন ভোগান্তি চরমে

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঘাটাইল থেকেঃ টাঙ্গাইলের ঘাটাইল কলেজ মোড় হতে সাগরদীঘি হয়ে তমালতলা পর্যন্ত সড়ক উন্নয়নকাজ চলছে। সড়কের সাগরদীঘি বাসস্ট্যান্ড ও সাগরদীঘি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে খোঁড়া-খুঁড়ি করে ফেলে রাখা হয়েছে প্রায় আড়াই বছর ধরে। দীর্ঘদিন ধরে এভাবে ফেলে রাখায় সামান্য বৃষ্টি হলেই দেখা দিচ্ছে স্থায়ী জলাবদ্ধতা। সড়কে বড় বড় গর্তের সাথে হাঁটু সমান কাঁদার সৃষ্টি হয়েছে। ভোগান্তির কথা স্বীকার করলেন সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো.ওয়াহেদুজ্জান। এ নিয়ে আজ (৮জ জুন) বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে সাগরদীঘি বাজারে মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী। মানব বন্ধনে বক্তব্য রাখেন জেলা যুবলীগ নেতা রফিকুল ইসলাম, আওয়ামীলীগ নেতা সাইফুল ইসলাম, জিন্নাত, আরমান আলী প্রমুখ।

সড়ক ও জনপদ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ঘাটাইল কলেজ মোড় হতে তমালতলা পর্যন্ত ৩১ কিলোমিটার সড়কের কাজ শুরু হয়েছে ২০১৮ সালের নভেম্বর মাসে। দুইভাগে এ কাজ হয়েছে। কামালপুর থেকে সাগরদীঘি বাজার হয়ে তমালতলা পর্যন্ত১১ কি.মি. এ অংশে কাজ করছে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ভাওয়াল কন্সট্রাকশন। আর এর নির্মাণ ব্যায় ধরা হয়েছে ২৫ কোটি ২০ লাখ টাকা। শুরু থেকেই এ অংশে কাজের ধীরগতির অভিযোগ রয়েছে। সাগরদীঘি বাসস্ট্যান্ড ও সাগরদীঘি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে খোঁড়া-খুঁড়ি করে ফেলে রাখা হয়েছে প্রায় আড়াই বছর ধরে। অপরিকল্পিতভাবে খোঁড়া-খুঁড়ির কারণে সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়কে পানি জমে যায়। পানি জমে থাকায় সড়কে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এসব গর্তে যানবাহন আটকে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোট বড় দূর্ঘটনা। পথচারীদের হাঁটুর ওপরে কাপড় রেখে সড়কের এ পাড় থেকে ওপাড়ে যেতে হয়। যানবাহনের চাকার মাধ্যমে পথচারীদের গায়ে লাগে ময়লা পানি। এ স্থান দিয়ে পায়ে হেঁটে চলাচলও অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। উপজেলার এ পাহাড়ি অঞ্চলটি সবজির অঞ্চল নামে খ্যাত। যানবাহন চলাচল করতে না পারায় কৃষকের কষ্টের ফসল খেতেই পঁচে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় কৃষক আনোয়ার হোসেন বলেন, সড়কে প্রতিদিনই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে কাঁচামাল ভরে যাওয়া ট্রাক। এতে করে লোকসানের মুখে পড়তে হচ্ছে কৃষককে।

সাগরদিঘি পাগারিয়া গ্রামের কৃষক আতিকুর রহমান আতিক বলেন এই সড়কের কারণে লেবু খেতেই পেকে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কলা, কাঁঠাল, করলা ও বেগুনের গাড়ি সড়কে আটকে যাচ্ছে। দুই তিন দিন আটকে থেকে গাড়িতেই পঁচে যাচ্ছে। তিন চার মাস ধরে এভাবেই সড়কে পানি জমে থাকে।

সাগরদীঘি ইউপি চেয়ারম্যান হেকমত সিকদার বলেন, এই সড়কের কারণে দুই বছর ধরে ভুগছে এলাকাবাসি। সরকারের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার ধরণা দেওয়ার পরও কাজ হচ্ছে না। সড়কে পানি জমে থাকার কারণে আমি নিজেও বাজারে যেতে পারিনা। এখন সবজির মৌসুম চলছে, এই সড়কের কারণে কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারেনা এবং সবজি খেতেই পঁচে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ভাওয়াল কন্সট্রাকশন এর ঠিকাদার ফখর উদ্দিন বাচ্চু বলেন, ওই অংশে আমার আর কোনো কাজ নেই। কার্পেটিং ধরা ছিল কাজ শেষ করেছি। এখন ওইস্থানে আরসিসি ঢালাইয়ের কাজ হবে, কিন্তু মন্ত্রনালয় থেকে এখনো তা পাশ হয়নি।

এলাকার মানুষ চরম ভোগান্তিতে আছেন এ কথা স্বীকার করে সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো.ওয়াহেদুজ্জান বলেন, সাগরদীঘি বাজারের পশ্চিমের অংশ ও বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে ৬৭৮ মিটার ঢালাইয়ের কাজ করা হবে। টেন্ডারে ওই স্থানে ঢালাই ধরা ছিলনা। প্রায় এক বছর আগে নতুন করে প্রস্তাব করা হয়েছে। অনুমোদন হলেই কাজ শুরু করা হবে।

ঘাটাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অঞ্জন কুমার সরকার বলেন, জেলা সমন্বয় সভায় ওই সড়ক নিয়ে কথা হয়েছে। আমি নিজেও ওই সড়ক দিয়ে গাড়ি নিয়ে যেতে পারিনা। আমি যে অবস্থা দেখে এসেছি পায়ে হেটে চলাচলেরও কোনো উপায় নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এ বিভাগের আরো সংবাদ