আজ ১২ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

টাঙ্গাইলে এবারও চাহিদা ও লক্ষ্যমাত্রার অধিক চাল উৎপাদন

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ টাঙ্গাইলে এবারও চাহিদা ও লক্ষ্যমাত্রার অধিক চাল উৎপাদন হওয়ায় অবশিষ্ট চাল দেশের বিভিন্ন জেলায় রপ্তানি করা হচ্ছে। কৃষি বিভাগ জানিয়েছেআবহাওয়া অনুকূলে ও পোকামাকড়ের আক্রমণ না হওয়ায় উৎপাদন ভালো হয়েছে।

জেলার ১২টি উপজেলায় চলতি বছর ২ লাখ ৪৩ হাজার ৩৮৫ মেট্রিক টন চাল বেশি উৎপাদন হয়েছে। ৪৩ লাখ ২৭ হাজার ৯৫০ মানুষের (ইপিআই মাইক্রোপ্লান-১৯) জন্য ৭ লাখ ২ হাজার ৫৯৭ মেট্রিক টন চালের প্রয়োজন। সেখানে উৎপাদন হয়েছে ৯ লাখ ৪৫ হাজার ৯৮২ মেট্রিক টন।

এদিকে ভালো দাম পেয়েও খুশি কৃষক। এমন সফলতাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন জনপ্রতিনিধিরা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়গত বছর রোপা আমনের চাষ করা হয়েছিলো ৮৮ হাজার ২৫২ হেক্টর জমিতে। চলতি অর্থবছরে রোপা আমনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮৮ হাজার ২৬০ হেক্টর। সেখানে অর্জন হয়েছে ৮৯ হাজার ৮৬১ হেক্টর। চাল উৎপাদন হয়েছে ২ লাখ ১২ হাজার ২৫২ মেট্রিক টন। গত বছরের চেয়ে দুই শতাংশ বেশি উৎপাদন হয়েছে। গত বছর জেলায় চাল উৎপাদন হয়েছিলো ৭ লাখ ১ হাজার ৬৬৩ মেট্রিক টন। এ বছর বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল এক লাখ ৬৯ হাজার ৫৭৬ হেক্টর জমি। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৭ লাখ ১ হাজার ৬৬৩ মেট্রিক টন। সেখানে এক লাখ ৭১ হাজার ২২৫ হেক্টর জমিতে ৭ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন চাল উৎপাদন হয়েছে।

গত বছর আউশের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ হাজার ৪৯০ হেক্টর। কয়েক দফার বন্যায় তলিয়ে ৯২৩ হেক্টর জমিতে আউশের চাষ হয়েছিল। উৎপাদন হয়েছিল ২ হাজার ৪৬৮ মেট্রিক টন চাল। এ বছর ২ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে আউশের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়াও উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ হাজার ৮০০ মেট্রিক টন।

জেলার শ্রেষ্ঠ কৃষক আনিসুর রহমান আনিস বলেনএ বছর আমি ৯ বিঘা (৩৩ শতাংশে এক বিঘা) জমিতে বোরো চাষ করেছি। উচ্চ ফলনশীল জাতের হাইব্রিড ধান চাষ করায় প্রতি বিঘায় গড়ে ৪০ মণ করে ধান পেয়েছি। ৯ বিঘায় প্রায় ৭২ হাজার টাকা আমার খরচ হলেও ৩৬০ মণ ধান পেয়েছি। এর বর্তমান বাজার মূল্য ৩ লাখ ৬০ হাজারেরও বেশি। আগে এক বিঘা জমিতে ২০ থেকে ২৫ মণ ধান হতো। ধানের বীজ সরকারের পক্ষ থেকে বিনামূল্যে পাওয়ায় কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুল রাজ্জাকসহ প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই।

অপর কৃষক আমির হামজা বলেনআবহাওয়া অনুকূলে থাকায় অন্যান্য বছরের চেয়ে এ বছল ফলন অনেক ভালো হয়েছে। এ বছর প্রাকৃতিক দুর্যোগ ছাড়াই ধান ঘরে তুলতে পেরে খুব আনন্দিত। কৃষি অফিস থেকে সার্বিক সহযোগিতা পাওয়ায় আমি কৃতজ্ঞ।

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা এমএম মোবারক আলী বলেনপ্রণোদনার আওতায় কৃষকদের সার-বীজ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও কৃষকদের প্রযুক্তিগত সহযোগিতা করা হয়েছে। কৃষকদের যে কোনো সমস্যা সমাধানের জন্য প্রস্তুত আছি।

সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাহান আনছারী বলেনকৃষকের উৎপাদন খরচ কমানোর জন্য কৃষিমন্ত্রীর সহযোগিতায় টাঙ্গাইল সদর উপজেলায় ১৪টির পরিবর্তে ২০টি কম্বাইন হারভেস্টার মেশিনের মাধ্যমে ধান কাটা হয়েছে। এ ছাড়াও কৃষককে বিনামূল্যে বীজ ও সার দেওয়া হয়েছে। জেলায় চাহিদা ও লক্ষ্যমাত্রার অধিক চাল উৎপাদন হওয়ায় কৃষিমন্ত্রী ও কৃষি কর্মকর্তাসহ সবাইকে তিনি অভিনন্দন জানান।

কৃষিসম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আহ্সানুল বাসার বলেনএবছর পোকা মাকড়ের আক্রমণ ছিল না। অপর দিকে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বাম্পার ফলন হয়েছে। ফলন ভালো হওয়ায় অন্যান্য বছরের তুলনায় কৃষকরা এ বছর একটু বেশিই লাভবান হবেন। এছাড়াও উচ্চ ফলনশীল জাতের ধানের ফলন ভালো হওয়ায় এ বছর হাইব্রিডের জমি বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব কারণে লক্ষ্যমাত্রা ও চাহিদার অধিক ধান টাঙ্গাইলে উৎপাদন হয়েছে।

অতিরিক্ত ধান টাঙ্গাইলসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় রপ্তানি করা হবে। এছাড়াও জেলায় শতাধিক কম্বাইন হারভেস্টার মেশিনের মাধ্যমে ধান কাটা হয়েছে। এতে কৃষকের খরচ ও সময় সাশ্রয় হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এ বিভাগের আরো সংবাদ