আজ ১২ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

সখিপুরে এসআই শাহীন মিয়ার প্রত্যাহার দাবিতে মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ টাঙ্গাইলের সখীপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শাহীন মিয়ার প্রত্যাহার দাবিতে মানববন্ধন করেছে একজন নির্যাতিত নারী ও তাঁর দুই ছেলে। রোববার (২০ জুন) বেলা দেড়টায় সখীপুর-ঢাকা সড়কের ছাপড়াবাজার এলাকায় এ মানববন্ধন হয়েছে।

এলাকাবাসীর ব্যানারে ওই কর্মসূচিতে ওই নারী, দুই ছেলে, ঘেচুয়া গ্রামের ১০জন নারী, একজন বয়স্কলোকসহ পাঁচজন তরুণ অংশ নেন। তবে ওই কর্মসূচির বিপরীত পাশে অবস্থান নেওয়া ঘেচুয়া গ্রামের অর্ধশত লোকজন ওই নারীর পক্ষে মৌন সমর্থন নিয়ে উপস্থিত হন।

নির্যাতিত ওই নারী দাবি করেন, তাঁর স্বামী প্রায় পাঁচ বছর ধরে গাজীপুরে এক কারখানায় চাকরি করেন। তাঁর স্বামী সেখানে একটি বিয়েও করেছেন। ওই নারী কলেজ পড়ুয়া ও পাঁচ বছর বয়সী দুই ছেলে নিয়ে উপজেলার ঘেচুয়া গ্রামে স্বামীর বাড়িতে বসবাস করছেন। ওই নারী টিউশনি করে জীবনযাপন করছেন। সম্প্রতি তাঁর স্বামী তাঁকে তালাক দিয়েছেন।

স্বামীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত বৃহস্পতিবার সখীপুর থানার এসআই শাহীন মিয়া দুই ছেলেসহ ওই নারীকে কোনো নারী পুলিশের সহযোগিতা ছাড়াই ঘর থেকে জোরপূর্বক বের করে দিয়ে তালা দেন।

এসআই শাহীন মিয়ার দাবি, স্বামীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে ওই নারীকে বের করে দিলেও ঘণ্টাখানেক পর আবার তালা খুলে দিয়েছি। মানবিক দিক বিবেচনা করে ওই নারীকে আবার তাঁর স্বামীর বাড়িতেই আশ্রয়ের ব্যবস্থা করেছি। আমাকে প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন করাটা ওই নারীর ঠিক হয়নি।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ঘেচুয়া গ্রামের মৃত শামসুল হকের ছেলে আব্দুল লতিফ মিয়ার সঙ্গে সিরাজগঞ্জ জেলার কামারখন্দ উপজেলার চাঁদপুর গ্রামের মৃত কুরবান আলী শেখের মেয়ে আয়েশা বেগমের বিয়ে হয় ২০০১ সালে। তাঁদের বড় ছেলে মুশফিকুর রহমান (১৭) ঢাকার একটি কলেজে পড়াশোনা করেন ও আরেক ছেলে মশিউর রহমানের বয়স পাঁচ বছর। গত পাঁচ বছর ধরে ওই নারীর স্বামী আবদুল লতিফ গাজীপুরে একটি কারখানায় চাকরি করেন। এই পাঁচ বছর ধরে তাঁদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ চলছিল। মাস ছয়েক আগে ওই নারীকে তালাক দেন স্বামী।

সপ্তাহখানেক আগে স্বামী লতিফ মিয়া সখীপুর থানায় স্ত্রীকে আসামি করে অভিযোগ দেন। ওই অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত বৃহস্পতিবার সখীপুর থানার এসআই শাহীন মিয়া উপজেলার ঘেচুয়া গ্রামে গিয়ে দুই ছেলেসহ ওই নারীকে ঘর থেকে বের করে দিয়ে তালা দেন। পরে গ্রামবাসীর সহযোগিতায় ওই নারী আবার ওই বাড়িতে অবস্থান নেন।

আবদুল লতিফ মিয়া আজ রোববার বলেন, আমি স্ত্রীকে তালাক দিয়েছি। আমার বাড়িতে ওই নারীর থাকার কোনো অধিকার নেই। তাই আমি থানায় মামলা করেছি।

তাঁর স্ত্রী আয়শা বেগম মানববন্ধনে সাংবাদিকদের বলেন, পাঁচ বছর ধরে আমার স্বামী আমার দুই ছেলেসহ কারও ভরণপোষণ করেন না। শুনেছি তিনি গাজীপুরে আরেকটা বিয়ে করেছেন। টিউশনি করে আমি বনের জমিতে ঘর দিয়েছি। সেই ঘর থেকে আমি ও আমার সন্তান মরে গেলেও বের হবো না। এটা আমার বাড়ি।

যাদবপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও ঘেচুয়া গ্রামের বাসিন্দা আসাদুজ্জামান আক্কাছ বলেন, ওই নারী টিউশনি করে সংসার চালাচ্ছেন। স্বামী বের করে দিলে ওই নারী যাবে কোথায়? স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে যে সমস্যা হয়েছে তা আমরা শিগগিরই গ্রামবাসী মিলে সমাধান করব।

যাদবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান বলেন, থানার এসআই শাহীন মিয়া ওই নারীর সঙ্গে যে আচরণ করেছেন তা ঠিক করেননি। তিনি একজন নারীকে আদলতের আদেশ ছাড়া ঘর থেকে বের করে দিয়ে ঘরে তালা ঝুলিয়ে দিতে পারেন না। তিনিও ওই পুলিশ কর্মকর্তার শাস্তি দাবি করেন।

সহকারী পুলিশ সুপার (সখীপুর সার্কেল) আবদুল মতিন বলেন, তদন্ত সাপেক্ষে এসআইয়ের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এ বিভাগের আরো সংবাদ