আজ ১২ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

করোনার কারণে টাঙ্গাইলের করটিয়া কাপড়ের হাট ক্রেতাশূণ্য

টাঙ্গাইল প্রতিনিধিঃ করোনার কারনে দেশের বিভিন্ন জেলা ও দেশের বাইরে থেকে পাইকার না আসায় জাতীয় অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখা বৃহৎ কাপড়ের করটিয়া হাটে ক্রেতাশূণ্য। কাপড়ের বান্ডিল নিয়ে বসে রয়েছেন বিক্রেতা কিন্তু নেই ক্রেতার দেখা। গত তিনদিনে হাটে একজন ব্যবসায়ী মাত্র ১২টি কাপড় বিক্রি করতে পেরেছেন। এমন চিত্র প্রায় সব ব্যবসায়ীর। ফলে বিপাকে পড়েছেন টাঙ্গাইলের শাড়ি ব্যবসায়ী ও তাঁতীরা।

জানা যায়, দেশের প্রাচীন ও বৃহৎ কাপড়ের করটিয়া হাট। তুলনামূলকভাবে কম দাম ও বিখ্যাত টাঙ্গাইল শাড়ির প্রাপ্তিস্থান হওয়ায় দেশের বিভিন্ন জেলা ছাড়াও ভারতের পাইকারি শাড়ি ব্যবসায়ীদেরও অন্যতম পছন্ট এই হাটটি। দেশে করোনার প্রথম ঢেউয়ের লকডাউনে প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো টাঙ্গাইলের এই করটিয়া হাটটি বন্ধ হয়ে যায়। দেশের এই বৃহৎ হাটে ব্যবসায়ী ও তাঁতীরা টাঙ্গাইল শাড়ি বিক্রি করেন। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর হাট আবার চালু করে ব্যবসায়ীরা ঘুরে দাঁড়ানোর আপ্রাণ চেষ্টা চালায়। কিন্তু দ্বিতীয় দফার লকডাউনে আবার হাট বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানেও দেশজুড়ে করোনা সংক্রমণ ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এ কারণে দেশের বিভিন্নস্থানে ফের লকডাউন চলছে। ফলে দেশের বিভিন্নস্থান ও দেশের বাইরে থেকে পাইকাররা এই বৃহৎ করটিয়া হাটে টাঙ্গাইল শাড়ি কিনতে আসতে পারছেন না। সামনে কোরবানির ঈদ। আর ঈদকে কেন্দ্র করেও গত মঙ্গল, বুধ ও বৃহস্পতিবার এই তিনদিনে বড় পাইকারের দেখাও পায়নি শাড়ি ব্যবসায়ীরা। হাটে খুচরা ক্রেতাও ছিল না চোখে পড়ার মতো। যেখানে স্বাভাবিক সময়ে একজন ব্যবসায়ী শাড়ি বিক্রি করতে পারতেন ৫লাখ টাকার। সেখানে একজন ব্যবসায়ীর শাড়ি বিক্রি হচ্ছে মাত্র ১০ থেকে ৫০ হাজার টাকার। টানা তিনদিনের হাটে একজন ব্যবসায়ীর মাত্র ১২টি শাড়ি বিক্রিরও ঘটনা ঘটেছে। এমতাবস্থায় চরম হতাশা ও দূশ্চিন্তায় ভুগছেন শাড়ি ব্যবসায়ী ও তাঁতীরা। এই অপূরণীয় ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে কতদিন লাগবে তা কোনও ব্যবসায়ীরও জানা নেই।

টাঙ্গাইল শাড়ি ব্যবসায়ী আব্দুল মোতালেব বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন জেলা ছাড়াও দেশের বাইরে থেকেও পাইকাররা আসতো শাড়ি কিনতে। কিন্তু বিভিন্ন জেলায় লকডাউন থাকায় এখন তারা আসতে পারছেন না। ফলে করটিয়া হাট প্রায় ক্রেতা শূণ্য। স্বাভাবিক সময়ে প্রায় ৫ লাখ টাকার শাড়ি বিক্রি হতো। কিন্তু গত তিনদিনে হাটে মাত্র ৫০ হাজার টাকারও কাপড় বিক্রি করতে পারিনি।’

তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমানে আমাদের ব্যবসায় ধ্বস নেমে এসেছে। করোনা ভাইরাসের নামে দেশে যে লকডাউন চলছে। এ কারনে ব্যবসায় অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতির কারনে আমরা যারা ব্যবসায়ী তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। পরিবারের খরচবহন করাও আমাদের জন্য কষ্টকর হয়ে পড়েছে। লকডাউন আমাদের দেশ থেকে উঠিয়ে দেওয়া উচিৎ। তা না হলে দেশে অনেক ব্যবসায়ীর অপূরণীয় ক্ষতি হবে। এ ক্ষতি পূরণের কোনও উপায় থাকবে না।’

শাড়ি ব্যবসায়ী মনির ভূইয়া বলেন, ‘টানা তিনদিনের হাটে মাত্র ১২পিছ শাড়ি বিক্রি করতে পেরেছি। আমার খরচের টাকাও উঠেনি। স্বাভাবিক সময়ে তিনদিনে প্রায় ৩ লাখ টাকার মতো কাপড় বিক্রি হতো। এই লকডাউনে আইসা এখন ডাউনে পড়ে গেলাম। পাইকার ও খুচরা ক্রেতারাও হাটে আসেনি। হাটে ক্রেতা শূণ্যই বলা চলে।’

শাড়ি ব্যবসায়ী উত্তম কুমার সরকার বলেন, ‘এই হাটে রংপুর, বরিশাল, গাইবান্ধা, সাতক্ষীরা, সিরাজগঞ্জ, নওগাঁ, রাজশাহী, নরসিংদীর বাবুরহাটসহ দেশের বিভিন্ন জেলা ছাড়াও দেশের বাইরে থেকেও পাইকাররা আসতো শাড়ি কিনতে। কিন্তু এখন লকডাউনের কারনে পাইকাররা হাটে আসতে পারছে না। শাড়ি নিয়ে আমরা ব্যবসায়ীরা বসে আছি কিন্তু পাইকার ও খচুরা ক্রেতার দেখা পাওয়া যাচ্ছে না। প্রায় ক্রেতা শূণ্যই যাচ্ছে হাট।’

শাড়ি ব্যবসায়ী সিয়াম বলেন, ‘আমি করটিয়া হাটে প্রায় ৬ বছর ধরে শাড়ির ব্যবসায় করি। লকডাউনের কারনে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকাররা হাটে আসতে পারছেন না। এ কারনে হাটে শাড়ি বিক্রিই নেই। খুচরা ক্রেতাও একেবারেই কম।’

করটিয়া হাট কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. জিন্নাহ বলেন, ‘প্রথম লকডাউনে প্রাচীন এই করটিয়া হাটটি বন্ধ ছিল। এখন চালু হলেও করোনার ভয়ে হাটে মানুষ আসছে না। লকডাউনের কারনে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকার আসতে পারছেন না। এজন্য হাটে শাড়ি বিক্রি একেবারেই কমে গেছে। এখন ব্যবসায়ীদের অবস্থা খুবই খারাপ। তাদের যে ক্ষতি হয়েছে এটা অপূরণীয়।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এ বিভাগের আরো সংবাদ