আজ ১২ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

মধুপুরের মহিষমারা(জয়নাতলী) ইউপি সদস্য কাজী জয়নাল হাজারীর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভনে একাধিক বিত্তশালী নারীর অর্থ-সম্পদ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার মহিষমারা ইউপি সদস্য কাজী জয়নাল হাজারীর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভনে একাধিক বিত্তশালী নারীর অর্থ-সম্পদ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠেছে। অভিযোগে জানা যায়, মধুপুরের জয়নাতলী গ্রামের কাজী সোবহানের ছেলে কাজী জয়নাল হাজারী গার্মেন্টসে চাকুরি করাকালে সাভারে এক সহকর্মীকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর ওই নারীর অর্থায়নে তিনি মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমান।

মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফিরে স্ত্রীর কাছে না গিয়ে বরিশালে তার এক বন্ধুর বোনকে বিয়ে করেন। বরিশালের ওই নারীর অর্থে ঢাকায় বসবাস শুরু করেন।

ঢাকায় থাকাকালীন তিনি আরও এক বিত্তশালী নারীকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিয়ে করেন। পরে তার অর্থ-সম্পদ হাতিয়ে নিয়ে বরিশালের স্ত্রীকে নিয়ে গ্রামের বাড়ি মধুপুরের জয়নাতলীতে বসবাস শুরু করেন।

এরই মধ্যে ঘাটাইলের একটি স্কুলের বিধবা শিক্ষিকার সাথে মোবাইল ফোনে প্রতারণামূলকভাবে ইতালি প্রবাসী মেহেদী হাসান মিলন নাম ধারণ করে প্রেমের ফাঁদে ফেলেন। এক পর্যায়ে ওই বিধবা নারীকে তার দুই সন্তান সহ ভুয়া কাবিননামায় সাক্ষর নিয়ে বিয়ে করে।

পরে দুই সন্তান সহ ওই নারীকে ইতালি নেওয়ার কথা বলে বাড়ি বিক্রির ১৬ লাখ টাকা, প্রায় ৬ ভরি ওজনের স্বর্ণালঙ্কার ও তিন জনের পাসপোর্ট কৌশলে হাতিয়ে নিয়ে সটকে পড়ে।

সরেজমিনে মধুপুরের জয়নাতলী গ্রামে গেলে স্থানীয়রা এক বাক্যে কাজী জয়নাল আবেদীন বার বার বিয়ে করায় এলাকাবাসীর কাছে ‘হাজারী’ উপাধি পেয়ে জয়নাল হাজারী হয়েছে বলে জানায়।

সুদর্শন হওয়ায় বিত্তশালী নারীদের প্রেম ও বিয়ের প্রলোভনে অর্থ-সম্পদ হাতিয়ে নেওয়া তার এক প্রকার স্বভাব হয়ে দাঁড়িয়েছে বলেও এলাকাবাসী মনে করে।

অভিযুক্ত ইউপি সদস্য কাজী জয়নাল হাজারী জানান, তার বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ মিথ্যা। স্থানীয় পর্যায়ে তার নির্বাচনী প্রতিপক্ষের লোকজন এসব কথা বলে সমাজে তাকে হেয় করার অপচেষ্টা করছে। তিনি ৪-৫টি বিয়ে করেছেন এটা সত্য, তবে ১০০-১৫০ বিয়ে করার কথা আদৌ সত্য নয়।

ইউপি সদস্য হিসেবে গ্রাম্য বিচার-সালিশে তিনি সত্য কথা বলেন বিধায় এলাকায় তার কিছু শত্রুও সৃষ্টি হয়েছে বলে তিনি জানান।

মহিষমারা ইউপি চেয়ারম্যান মোতালেব হোসেন জানান, ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের সদস্য কাজী জয়নাল হাজারী ২০-২৫টি বিয়ে করেছে বলে এলাকায় জনশ্রুতি রয়েছে। তবে ইউপি সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি নতুন কোন বিয়ে করেননি। বিয়ে করে অর্থ-সম্পদ হাতিয়ে নেওয়ার বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এ বিভাগের আরো সংবাদ