আজ ১২ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

ঘাটাইল-মধুপুরের পাহাড় কেটে ভরাট করা হচ্ছে পাকুটিয়ার বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ পরিবেশ আইনে পাহাড় কাটা নিষিদ্ধ। কিন্তু এসবের তোয়াক্কা না করে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল ও মধুপুরে দেদারছে চলছে পাহাড় কাটা। ঘাটাইলের পাকুটিয়াস্থ নির্মাণাধীন বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রের জায়গা ভরাটের জন্য কাটা হয়েছে এ পাহাড়। আর ওই জায়গাটি ভরাট করতে লেগেছে কমপক্ষে ২ লাখ ঘনফুট মাটি। যার বেশিরভাগ মাটিই আনা হয়েছে ঘাটাইল ও মধুপুরের লাল মাটির সুউচ্চ পাহাড় কেটে।

সরেজমিন মাসাধিককাল ঘাটাইলের বিভিন্ন এলাকা ও মধুপুরের অলোকদিয়া ইউনিয়নের সীমানা ঘুরে দেখা গেছে নির্বিচারে পাহাড় কাটার এ যথেচ্ছাচার।

ঘাটাইলের দেউলাবাড়ি ইউনিয়নের পূর্ব-উত্তর কোনে একটি স্থানের নাম বাগেরহাট বাজার। এখানেই ঘাটাইলের সীমানা শেষ। এখান থেকে পাহাড়ের পাদদেশ দিয়ে সোজা উত্তরে একটু এগুলেই একটি স্থানের নাম মহিষবাতান ঘাট। এলাকাটি মধুপুর অংশের পাহাড়ি সবুজ বনবনানি ঘেরা লালমাটির সুউচ্চ টিলা পাহাড় অধ্যুষিত। কালের বিবর্তনে বন ধ্বংস হলেও এতদিনও টিকেছিল লাল মাটির পাহাড়। কিন্তু এলাকার সংঘবদ্ধ একটি চক্র পাহাড় কেটে দেদার বিক্রি করছে মাটি।

তারা ৬০/৭০ ফুট উচ্চতার বিশালাকৃতির পাহাড় কেটে সমতল ভূমিতে পরিণত করেছে। ফলে বিপন্ন হয়ে যাচ্ছে প্রাকৃতিক নিরাপত্তা। এতে ঘাটাইল ও মধুপুরের মানচিত্র থেকে চিরতরে মুছে যাচ্ছে প্রাকৃতিক সম্পদ পাহাড়।

স্থানীয়রা বলছেন, ঘাটাইলের পাকুটিয়া চামড়া হাটের সন্নিকটে নির্মাণাধীন বিদ্যুতের উপকেন্দ্রের ৭ একর জায়গায় মাটি ভরাট করতেই পাহাড় কেটে সাবার করা হয়েছে। ঘাটাইলে কাশেম বাহিনী আর মধুপুরের পচিশা গ্রামের সেলিম ও গাঙ্গাইর শহিদ মিলে পৃথক বাহিনী গঠন করে পাহাড় কাটার প্রতিযোগিতায় নেমেছে।

স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এক্সেভেটর দিয়ে রাত দিন চব্বিশ ঘণ্টাই পাহাড় কাটছে এ বাহিনী। বর্তমানে দুটি পাহাড়ের প্রায় অর্ধেক সাবাড় হয়ে গেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, প্রভাবশালী একটি মহলকে ম্যানেজ করে শুরু হয় পাহাড় কাটা। প্রথমে ঘাটাইলের চেরাভাংগা ঈদগাহ মাঠের টানে ও বগা এলাকার পাহাড় কাটে কাশেম বাহিনী। পরে রেজাউল নামে আরও একটি গ্রুপ যুক্ত হয়। এতে তাদের আধিপত্য নিয়ে অতি সম্প্রতি হযরত চালা ও ঠাণ্ডুর চালায় দু’গ্রুপের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

বনবিভাগের খাস ভূমিতে দিনের পর দিন পাহাড় কেটে শ্রেণি পরিবর্তন করলেও অজ্ঞাত কারণে বনকর্তারাও রয়েছেন নীরব।

এদিকে সরেজমিন ঘাটাইলের ঝড়কা বিটের পাশ দিয়ে ভানিকাত্রা হয়ে পাহাড়ের পাদদেশ দিয়ে দক্ষিণে দেওপাড়া পর্যন্ত গেলে দেখা যাবে নির্বিচারে কিভাবে কাটা হয়েছে বিশালাকৃতির সুউচ্চ পাহাড়। পাহাড় কেটে বানানো হয়েছে বাড়িঘর ও রাস্তা।

ভবিষ্যতে পাহাড় থাকবে কিনা সংশয় প্রকাশ করে টাঙ্গাইল পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, ইটভাটাসহ বিভিন্ন ভরাটে পাহাড় কেটে মাটি বিক্রি করা হয়। আমাদের লোকবল কম থাকায় সবকিছু দেখা সম্ভব হয় না। ফলে এদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া যায় না।

এ বিষয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ ও বনবিদ্যা বিভাগের প্রফেসর ড. এএইচএম সাদাত বলেন প্রকৃতি আর পাহাড় এমন একটি জিনিস যাহা মন চাইলেই বানাতে পারি না। আমরা যদি মনে করি ১০ বছর বা ২০ বছর পর পাহাড়টা দরকার, সেটা কিন্তু আমরা রিক্রিয়েট করতে পারব না।

জরিমানায় কি পাহাড় কাটা রোধ করা সম্ভব এমন প্রশ্নের জবাবে প্রফেসর ড. এএইচএম সাদাত বলেন, জরিমানা দিয়ে সব কিছু হয় না।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে মধুপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীমা ইয়াসমিন বলেন, অভিযোগ পেয়ে আমি গত ২৫ এপ্রিল এবং পরে ৩০ এপ্রিল মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ৫ জনকে হাতেনাতে ধরে আড়াই লাখ টাকা জরিমানা করে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দিয়েছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এ বিভাগের আরো সংবাদ