আজ ১২ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

করোনায় বাসাইলে লেবুর ব্যবহার বেড়েছে

বাসাইল প্রতিনিধিঃ সারাদেশের ন্যায় টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলাতেও আঘাত হানতে শুরু করেছে করোনার তৃতীয় ঢেউ। প্রতিদিনই বৃদ্ধি পাচ্ছে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। এছাড়াও ঋতু পরিবর্তনের এই সময়ে কখনো রোদ আবার কখনো বৃষ্টি । ফলে অনেকেই আক্রান্ত হচ্ছেন জ্বর, সর্দি সহ নানা রোগে। এরই সাথে সাথে হঠাৎ করেই বাজারে লেবুর বিক্রি বেড়ে গেছে বহুগুনে।

প্রতিদিনের খাবারে লেবু শুধু স্বাদই বাড়ায় তা নয় এটি অত্যন্ত পুষ্টিকর একটি খাবার। এটি অত্যন্ত সহজলভ্য এবং তুলনা মূলক দামেও অনেক সাশ্রয়ী। সারা বছর জুড়েই লেবু পাওয়া যায়। লেবু (সাইট্রাস লিমন ) মূলত রুটেসি পরিবারের ছোট চিরসবুজ সপুষ্পক উদ্ভিদের একটি প্রজাতি। এটি দক্ষিণ এশিয়া সাধারণত, উত্তর পূর্ব ভারতের একটি স্থানীয় গাছ হলেও বাংলাদেশেও এটি প্রচুর পরিমানে পাওয়া যায়।

এর ব্যবহারের প্রধান অংশ মূলত এর রস। লেবুর রসে প্রায় ২.২ পিএইচ এর প্রায় ৫% থেকে ৬% সাইট্রিক অ্যাসিড, যার কারণে এটি টক স্বাদযুক্ত হয়। লেবু ভিটামিন সি এর সমৃদ্ধ উৎস, যা ১০০ গ্রাম রেফারেন্স পরিমাণে (টেবিল) দৈনিক প্রয়োজনীয়তার ৬৪% সরবরাহ করে। অন্যান্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানগুলি পরিমাণে কম থাকে। লেবুতে পলিফেনলস, টের্পেনস এবং ট্যানিন সহ অসংখ্য ফাইটোকেমিক্যাল রয়েছে। লেবুর রসে বাতাবিলেবুর রসের চেয়ে কিছুটা বেশি সাইট্রিক অ্যাসিড থাকে (প্রায় ৪৭ গ্রাম/লিটার)। লেবুর রসে জাম্বুরার রসের প্রায় দ্বিগুণ এবং কমলার রসের প্রায় পাঁচগুণ বেশি সাইট্রিক এসিড পাওয়া।

বাসাইল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাজনীন আক্তার জানান, উপজেলায় প্রায় ৬০/৭০ জন কৃষক প্রায় ১৩ হেক্টর জমিতে বানিজ্যিক ভাবে লেবু আবাদ করে। সেখান থেকে বছরে প্রায় ১৩৫মে.ট্রন লেবু উৎপাদন করা হয়। গ্রামীন জনপদের বেশির ভাগ বাড়িতেই লেবু গাছ দেখতে পাওয়া যায়। ফলে উৎপাদনের পুরোটা উপজেলায় বিক্রি হয়না বেশির ভাগই চলে যায় জেলা বা বিভাগীয় শহরে।

উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজার ঘুরে জানা যায় বিগত বছরের তুলনায় এবার লেবুর চাহিদা অনেক গুনে বেড়ে গেছে। এর প্রধান কারন হিসাবে লেবু চাষীরা করোনার প্রকোপ বৃদ্ধিকেই উল্লেখ করেছেন। করোনা প্রতিরোধে লেবুর ভূমিকা সর্ম্পকে জানতে চাইলে বাসাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, “সাধারণ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ফলে কোনো জীবাণু শরীরে প্রবেশ করলে সহজেই ওই রোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়। তবে যদি শরীরে স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা না থাকে, তাহলে ওই জীবাণু রোগ সৃষ্টি করে।”

তিনি বলেন, “বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে সাধারণ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করা অত্যন্ত জরুরি। করোনার প্রকোপে সবাই বেশি করে লেবু বা লেবুজাতীয় ফল খাবেন। ফলে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। কেননা এর ভেতরে যথেষ্ট পরিমাণ ভিটামিন সি রয়েছে। ভিটামিন সি সাধারণ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। অমি বিশ্বাস করি, করোনা প্রকোপের এই দুঃসময়ে সাইট্রিক অ্যাসিডসমৃদ্ধ খাবার খুবই উপকারী। শুধু করোনায় নয়, এটি খাওয়ার অভ্যাস করলে তা অন্য রোগ প্রতিরোধেও সহায়ক হবে। ”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এ বিভাগের আরো সংবাদ