আজ ১২ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

লকডাউনে মির্জাপুরে ভিক্ষুক, মধ্যবিত্ত, নিম্ন মধ্যবিত্ত ও খেটে খাওয়া শ্রমজীবি মানুষ বিপাকে

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকার দেশব্যাপী সাত দিনের কঠোর লকডাউন ঘোষণার পর তা আরও সাতদিন বৃদ্ধি করেছে ইতিমধ্যে। করোনার এমন পরিস্থিতিতে বিপাকে পড়েছেন টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের মধ্যবিত্ত, নিম্ন মধ্যবিত্ত ও খেটে খাওয়া শ্রমজীবি মানুষ।

মঙ্গলবার (৬ জুলাই) মির্জাপুর পৌরশহর ঘুরে মিলেছে সরকারি সহযোগিতা না পাওয়া বেশকিছু শ্রমজীবি মানুষের দুঃখগাঁথা। ৮ মাস বয়সী শিশুকে নিয়ে সস্ত্রীক ভিক্ষা করছেন উপজেলার আগধল্যা গ্রামের দৃষ্টি প্রতিবন্ধী আনোয়ার (৪৫)। এটিই তার পেশা। তার দেখা মিলে মির্জাপুর পৌর শহরের কলেজ রোডে।

করোনায় মৃত্যুর ভয় উপেক্ষা করে রাস্তায় নেমেও স্বস্তিতে নেই এই আনোয়ার দম্পতি। আনোয়ারের স্ত্রীর ভাষ্য- ছোট্ট মেয়েটার জন্য দুধ লাগে। যার এক প্যাকেটের দাম ৫০০ টাকা। অন্যসময় দোকান-পাট খোলা থাকে যা আয় হয় তা দিয়ে ভালভাবেই চলে। কিন্তু লকডাউনে বাজারে মানুষ নাই, দোকান-পাট বন্ধ। দিনে ২০-৫০ টাকাও আয় হয় না। মেয়ের দুধ কিনবো কি দিয়া আর আমরাই খামু কি!

দেখা মিলে ওয়াজ উদ্দিন (৬৫) নামের আরেক ভিক্ষুকের। শারিরিক প্রতিবন্ধী ওয়াজ উদ্দিন বলেন, আমার বাড়ি মির্জাপুরে না। কিন্তু ১৭-১৮ বছর যাবৎ মির্জাপুরেই থাকি। আমার আইডি কার্ডে (জাতীয় পরিচয় পত্র) মির্জাপুরে ঠিকানা না থাকায় কেউ আমারে সহযোগিতা করে না।

বয়সের ভারে গুটিশুটি হয়ে বসে ভিক্ষে করছিলেন শারতী মনিদাস। বৃদ্ধ স্বামী অসুস্থ হয়ে বিছানায়। সন্তানরা আলাদা। ভিক্ষে করেই জীবিকা নির্বাহ করেন তিনি। লকডাউনে বাইরে আসছেন কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভয়তো করে কিন্তু খামু কি! পেটেরেতো কিছু দেওন লাগবো।

কথা হয় পুষ্পরাণী দাস নামের আরেক ভিক্ষুকের সাথে। একটাই ছেলে তার। কিন্তু ছেলের জীবনই চলেনা তাই নিজেই নেমেছেন ভিক্ষা করতে। তবে লকডাউনে ভিক্ষাও মিলছেনা বলে তিনি জানান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পৌর এলাকার এক চা দোকানি বলেন, বাড়িতে মানুষ ৬ জন। এক চায়ের দোকানের উপরই নির্ভর। সরকারের কাছে চাইলে বড়জোর ১০ কেজি চাল দিবো। কিন্তু আর বাকি খরচ পামু কই।

প্যাডেল চালিত রিক্সা চালক রহিম মিয়া বলেন, লকডাউনে রিক্সা চালাইতে পারতাছি। কিন্তু কামাই নাই। আগে যাও ইনকাম হইতো লকডাউনে তাও হয়না। লকডাউনে বেকায়দায় পড়া এসব শ্রমজীবি ও ভিক্ষাবৃত্তি করে জীবিকা নির্বাহ করা মানুষ জানেন না সরকারি সহযোগিতা কিভাবে পেতে হয়। ৩৩৩ তাদের কাছে এক দুর্বোধ্য শব্দ ছাড়া আর কিছুই নয়।

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. খায়রুল কবির বলেন, উপজেলায় ৩ শতাধিক ভিক্ষুক রয়েছেন বলে তথ্য রয়েছে। তৃতীয় লিঙ্গের রয়েছেন ৩১ জন। যাদের ৮ জন নিয়মিত ভাতা পান।

এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আশরাফুজ্জামান বলেন, উপজেলায় ১৪টি ইউনিয়নে মোট ৮ টন চাল ও নগদ ৩৯ হাজার ৩৯৮ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এছাড়া ৩৩৩ নাম্বারে ফোন দিয়ে সহায়তা চাইলেও খাদ্য সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হাফিজুর রহমান বলেন, সরকারি বরাদ্দ কম থাকায় চাহিদা মোতাবেক সহযোগিতা করা যাচ্ছেনা। সামনে বরাদ্দ আসলে এই সমস্যা থাকবেনা। তারপরও ৩৩৩ নাম্বারে ফোন করে যারা খাদ্য সহায়তা চাচ্ছেন আমরা তাদের সহযোগিতা করছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এ বিভাগের আরো সংবাদ