আজ ১২ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

কালিহাতীতে ঈদকে সামনে রেখে বেড়েছে চুরির ঘটনা

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে চুরির ঘটনা দিন দিন বেড়েই চলেছে। পবিত্র ঈদ-উল-আযহাকে সামনে রেখে প্রতিনিয়তই উপজেলায় কোথাও না কোথাও ঘটছে চুরির ঘটনা। বিশেষ করে অধিক মূল্যের গরু চুরি হয়ে যাচ্ছে হরহামেশাই। কেউ থানায় অভিযোগ করছেন আবার কেউ নিরবে সহ্য করছেন। সন্ধ্যা গড়াতেই যেন চুরির আতঙ্ক বিরাজ করে এলাবাসীর মধ্যে।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় চুরির হিড়িক পড়লেও চুরি ঠেকাতে তেমন কোনো অগ্রণী ভূমিকা নেই পুলিশের এমনটাই দাবী ভূক্তভোগীদের।

জানা যায়, করোনা সংক্রমন বৃদ্ধি পাওয়ায় সারাদেশে চলমান লকডাউনে আয়ের উৎস বন্ধ। আর এই মহামারির মুহুর্তে চুরির ঘটনায় ঈদের সামনে আর্থিক সংকটে পড়েছেন ভুক্তভোগীরা। অনেকসময় নির্ঘুম রাত কাটিয়েও রক্ষা পাচ্ছেনা চুরি থেকে। গো-খামারীরা ভুগছেন নিরাপত্তাহীনতায়।

চলতি বছর ৪ জুলাই মধ্যরাতে উপজেলার সহদেবপুর ইউনিয়নের বানিয়াফৈর গ্রামের শহিদুল ইসলামের বাড়িতে চুরি হয়। চোরেরা ওই বাড়ী থেকে একটি ষাড় ও একটি বকনা গরু চুরি করে নিয়ে যায়।

একই রাতে ভবানীপুর গ্রামের আব্দুল কদ্দুছ মিয়ার একটি গাভীন গরু চুরি হয়।

গত ১০ মে রাতে সহদেব ইউনিয়নে দ্বিমুখায় জিয়াউল হকের বাড়ি থেকে ৫ ভরি স্বর্ণ এবং বিশ হাজার টাকা চুরি হয়।

এর আগে ওই এলাকায় টিউবওয়েলের পানির সাথে চেতনা নাশক ঔষধ মিশিয়ে একই রাতে দুই বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটে।

গত ৬ মে উপজেলার পাইকড়া ইউনিয়নের কোনাবাড়ী গ্রামে গরু চুরি হয়, চুরি হয় কাপড়ের দোকানেও।

গত ১৫ মে বানিয়াফৈর গ্রামের কবরস্থানের দান বাক্স ভেঙ্গে চুরি, ২৬ মে উপজেলার ভিয়াইল গ্রামের রাইজ উদ্দিনের বাড়িতে টিউবওয়েলে চেতনা নাশক ঔষধ মিশিয়ে ৫-৬ ভরি স্বর্ণ ও নগদ ২০ হাজার টাকা চুরি হয়, ওই রাতেই পাইকড়া ইউনিয়নের শিহরাইল গ্রামে তিন বাড়িতে সিঁধ কেটে চুরির ঘটনা ঘটে।

১৬ মে কালিহাতী সদরের মুন ডিজিটাল সাইনে টিনের চাল কেটে ১ লাখ ৮০ হাজার নগদ টাকা, কম্পিউটার চুরি হয়।

উপজেলার ঝগড়মান গ্রামে টিউবওয়েলে চেতনা নাশক ঔষধ মিশিয়ে চুরি হয়। সকালে ওই বাড়ির সাত সদস্যকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গত ২৭ মে রাতে উপজেলার পাইকড়া ইউনিয়নে মুনটিয়া গ্রামের শাজাহান মিয়ার দু’টি গরু, একই রাতে কোকডহরা ইউনিয়নের পোষনা গ্রামের বাদশা মিয়ার বাড়ী থেকে গরু চুরি, গত ৩১ মে উপজেলার শিহরাইল গ্রামের ছানোয়ারের বাড়ী থেকে তিনটি গরু চুরি হয়।

উপজেলার ভবানীপুর গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক শামছুল আলম জানান, আমার ছোট ভাই জাহাঙ্গীর আলমের বাড়ি থেকে একটি গাভী ও দু’টি ষাড় গরু গত ২০ জুন মধ্য রাতে চুরি হয়েছে। ওই দিন সকালেই কালিহাতী থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। এভাবে বিভিন্ন ইউনিয়নে বেশ কিছু জায়গায় হানা দিচ্ছে চোরেরা। সাম্প্রতিক সময়ে চুরির ঘটনাগুলো বেশি হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা জরুরী।

উপজেলার সহদেপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদুর রহমান বালা বলেন, এলাকায় গরু চুরি বেড়ে গেছে। এলাকার নেশাখোরদের মাধ্যমে এলাকার সব তথ্য আদান-প্রদান হয়। এদের দমন করা গেলে হয়তো চুরি কম হবে। গত আইনশৃঙ্খলা মিটিং-এ চুরির বিষয়ে কথা হয়েছে। এলাকার মানুষকে সচেতন করা হচ্ছে। গরু খামারীদের একটু রাত্রি জেগে পাহারা দিতে হবে।

এ বিষয়ে কালিহাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোল্লা আজিজুর রহমানের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, এসপি স্যারের অনুমতি ছাড়া এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারবো না।

টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় বলেন, এ বিষয়ে আমার কাছে কোন অভিযোগ নেই। গরু চুরি বা ডাকাতি হলে আমরা মামলা নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে পুনরুদ্ধার করে দিয়ে দেই। যদি কেউ মামলা বা অভিযোগ করে থাকে তাহলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এ বিভাগের আরো সংবাদ