আজ ১২ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

মধুপুরে রাতের আধাঁরে চলে অনুমোদনহীন কয়েল কারখানা

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ টাঙ্গাইলের মধুপুর পৌর শহরের মালাউড়ী গ্রামের ব্যাপারীপাড়া এলাকায় অনুমোদনহীনভাবে গড়ে উঠেছে কয়েল কারখানা। এতে জনজীবন ও পরিবেশ ঝুঁকির মুখে পড়ছে। অপরদিকে মশার কয়েল উৎপাদনকারী এই কারখানার কয়েল হিটার থেকে মাঝেমধ্যেই ঘটে থাকে অগ্নিকাণ্ড। এ কারণে এলাকাবাসী বড় ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার আশঙ্কায় আতঙ্কিত।

সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা যায়, মশার কয়েল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজন হয় ট্রেড লাইসেন্স, ভ্যাট, টিন, ট্রেড মার্ক, পরিবেশ ছাড়পত্র, বিএসটিআইসহ ১৩টি সংস্থার কাগজপত্র। কিন্তু মধুপুরের আবাসিক পল্লিতে গড়ে ওঠা আল-ইয়াসা নামক কয়েল কারখানা সরকারি কোনো বিধিই অনুসরণ করেনি।

স্থানীয় বাসিন্দা আজগর আলী বলেন, প্রায় চার বছর আগে আল–ইয়াসা কয়েল কারখানা গড়ে ওঠে। অনুমোদনহীনভাবে গড়ে ওঠায় এ কারখানার কার্যক্রম বেশির ভাগ সময়ই রাতের বেলায় চলে। উৎপাদনের সময় কয়েলের বিষাক্ত কেমিক্যালের গন্ধ আশপাশে ছড়িয়ে পড়ে। কয়েল হিটারে মাঝেমধ্যেই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

তাঁরা সম্পূর্ণ অবৈধভাবে ব্যবহার করছে ডি এলিথিন, ডাইমোফ্লোথিন, এস বায়োথিনসহ বিভিন্ন রাসায়নিক দ্রব্য। যার দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ায় পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়ছে। কারখানার শ্রমিকেরাও দূষণের শিকার হচ্ছেন।

ওই এলাকার শাজাহান, ছালেহা বেগমসহ আরও অনেকে বলেন, মাঝেমধ্যে কারখানায় আগুন লেগে যায়। অনেক সময় কোম্পানির লোকজনেই আগুন নেভাতে সক্ষম হন। আবার অনেক সময় দমকল বাহিনীর সহযোগিতায় অগ্নিনির্বাপণ করা হয়ে থাকে।

মধুপুর ফায়ার সার্ভিস স্টেশন কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন বলেন, আল-ইয়াসা কয়েল কারখানায় ৫ মে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল। ৩০ মিনিটেরও অধিক সময় চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। রুহুল আমিন কারখানার কোনো কাগজপত্রই দেখাতে পারেননি। সম্পূর্ণ অবৈধভাবে কারখানাটি গড়ে ওঠার ফলে পরিবেশের ক্ষতির পাশাপাশি এলাকাবাসীও আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল হাই বলেন, ‘রাতের বেলায় সবাই নিশ্চিন্তে ঘুমাতে চায়। এই কয়েল কারখানার জন্য আমাদের শান্তির ঘুমও হারাম হতে চলেছে। যেকোনো সময় আমরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ে যেতে পারি।’

কয়েল কারখানার মালিক মো. রুহুল আমীন বলেন, ‘কয়েল ফ্যাক্টরি গড়ার পর থেকেই লাইসেন্স করার চেষ্টা করছি। এখনো সবগুলো করে উঠতে পারিনি। মাঝেমধ্যে কারখানায় অতিরিক্ত তাপের কারণে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে যেতে পারে। আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকি।’

এ ব্যাপারে মধুপুর পৌরসভার স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর আনিছুর রহমান আনিছ বলেন, ‘এই কয়েল কারখানায় প্রায়ই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে বলে আমি জানতে পেরেছি। তাঁদের অসাবধানতার কারণে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। আল-ইয়াসা কয়েল কারখানাটির কাগজপত্র সঠিক রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।’

এ ব্যাপারে মধুপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শায়েস্তা ইয়াসমিন বলেন, ‘মালাউড়ী গ্রামে কয়েল কারখানা গড়ে উঠেছে, তা আমার জানা নেই। শিগগিরই খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এ বিভাগের আরো সংবাদ