আজ ১২ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

মির্জাপুরে গৃহহীনদের জন্য বাসগৃহ নির্মাণ প্রকল্পের কাজে অনিয়মের অভিযোগ ৮ মাসেই ফাটল

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে গৃহহীনদের জন্য দুর্যোগসহনীয় বাসগৃহ নির্মাণ প্রকল্পের কাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করায় ইতোমধ্যে দুটি ঘরের দেয়াল ও পিলারে ফাটল দেখা দিয়েছে।

বুধবার (৭ জুলাই) দুপুরে উপজেলার রশিদ দেওহাটা গ্রামে গিয়ে দুটি বাসগৃহে ফাটলের চিত্র দেখা গেছে।

ঘর বরাদ্দপ্রাপ্তরা বলছেন, দুর্যোগসহনীয় ঘর এখন নিজেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। তবে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার দাবি, নতুন মাটি ফেলে তড়িঘড়ি করে ঘর নির্মাণ করায় এই ফাটল দেখা দিয়েছে।

প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, পাঁচ সদস্যের কমিটির মাধ্যমে এসব বাসগৃহ নির্মাণ করা হয়েছে। কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। বাকিরা হলেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (সদস্য সচিব) এবং সদস্য উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি), উপজেলা প্রকৌশলী ও সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান।

উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নে গৃহহীনদের জন্য ২০১৯-২০ অর্থবছরে কাবিটা (কাজের বিনিময়ে টাকা) কর্মসূচির আওতায় গৃহহীনদের জন্য ২৪টি দুর্যোগসহনীয় ঘর নির্মাণ করা হয়। প্রতিটি ঘরে দুই লাখ ৯৯ হাজার টাকা করে ৭১ লাখ ৭৬ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়।

প্রকল্পের আওতায় হতদরিদ্র গৃহহীন পরিবারের জন্য ১০ ফুট প্রস্থ ও ২০ ফুট দৈর্ঘ্যের দুই কক্ষবিশিষ্ট একটি সেমিপাকা ঘর, একটি রান্নাঘর, একটি টয়লেট ও একটি করিডরসহ রশিদ দেওহাটা গ্রামে ২৬ শতাংশ জমির ওপর পাশাপাশি চারটি ঘর নির্মাণ করা হয়। তবে হস্তান্তরের আট মাসের মাথায় মাঝের দুটি ঘরে ফাটল দেখা দিয়েছে।

ঘর পাওয়া শাজাহান মিয়া বলেন, দুর্যোগসহনীয় ঘর পেয়ে আমরা খুবই খুশি হয়েছি। কিন্তু ওই ঘর এখন ‘নিজেই ঝুঁকিপূর্ণ’ হয়ে পড়েছে। নতুন মাটিতে ঘর নির্মাণ করায় এই ফাটল দেখা দিয়েছে বলে কর্মকর্তারা তাকে জানিয়েছেন।

মির্জাপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আশরাফুজ্জামান জানান, তড়িঘড়ি করে অল্প সময়ের মধ্যে মাটি ভরাট করে বাসগৃহ নির্মাণ করা হয়েছে। মাটি দেবে যাওয়ায় পাশাপাশি দুটি ঘরে ফাটল দেখা দিয়েছে। মঙ্গলবার তা সংস্কার করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাসগৃহ নির্মাণ প্রকল্পের সভাপতি ও মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হাফিজুর রহমান বলেন, আমি যোগদানের আগেই ঘরগুলো নির্মাণ করা হয়েছে।

তিনি দাবি করেন, এসব ঘর নির্মাণে উপজেলার কোথাও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়নি এবং কোনো ধরনের অনিয়মও হয়নি। ইউএনও আরও বলেন, কেন ফাটল ধরেছে তা যাচাই করে দেখা হবে। তদন্ত করে নির্মাণকাজে কোনো ধরনের ত্রুটি পাওয়া গেলে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এ বিভাগের আরো সংবাদ