আজ ১২ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

ধনাবাড়ীতে পুলিশের হস্তক্ষেপে প্রেমিকের সাথে অন্তঃসত্ত্বা প্রেমিকার বিয়ে

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ টাঙ্গাইলের ধনবাড়ি এলাকার অত্যন্ত প্রভাবশালী পরিবারের এক যুবকের সঙ্গে দীর্ঘ আট বছরের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে যুবতী এক মেয়ের। সম্পর্কের সূত্র ধরে পারিবারিকভাবেও জড়িয়ে পড়ে দুই পরিবার। পরবর্তীতে পারিবারিকভাবেই মেয়েটির সাথে বিয়ে ঠিক হয়। বিয়ের খরচ জোগাতে জমিও বিক্রি করেন মেয়েটির বাবা। বিয়ের আশ্বাসে ছেলেটির সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে জড়াতে বাধ্য হয় মেয়েটি।

একপর্যায়ে মেয়েটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। ছেলেটির বড় ভাই ওই এলাকার প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধি। অন্তঃসত্ত্বা মেয়েকে নিয়ে বিয়ের জন্য মেয়ের পরিবার বিভিন্ন জায়গায় ধর্ণা দিয়েও বিষয়টির কোনো সুরাহা হচ্ছিল না। অবশেষে পুলিশের হস্তক্ষেপে ওই প্রেমিকের সঙ্গে বিয়ে হয়েছে মেয়েটির।

শুক্রবার ( ৯ জুলাই ) পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) মো. সোহেল রানা এ তথ্য জানান।

মেয়েটির বাড়ি জামালপুরের সরিষাবাড়ি। মেয়েটির সাথে বেশ কিছুদিন মেশার পর ছেলেটি বিয়ে নিয়ে মেয়েটির সাথে গড়িমসি করতে থাকে। বিয়ের তারিখ পেছাতে থাকে। একদিন জানিয়ে দেয়, মেয়েটিকে সে বিয়ে করবে না। বিয়ের জন্য বিভিন্ন জায়গায় দেন-দরবার করে মেয়েটি ও তার পরিবার। এতে করে দুই পরিবারের মধ্যে সম্পর্ক আরো খারাপ হয়।

ছেলের পরিবারও এক পর্যায়ে ছেলেটির পক্ষে অবস্থান নেয়। ছেলেটির পরিবার অত্যন্ত প্রভাবশালী। তার বড় ভাই এলাকার প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধি। পেটে বাচ্চা নিয়ে মেয়েটি অসহায় হয়ে পড়ে। একপর্যায়ে মেয়েটির পরিবারও এই লড়াইয়ে তাকে সমর্থন দিতে অস্বীকৃতি জানায়। একা হয়ে পড়ে মেয়েটি। আর কোনো উপায় না দেখে বাংলাদেশ পুলিশের মিডিয়া এন্ড পাবলিক রিলেশন্স’কে জানায় মেয়েটি। পুলিশের সহযোগিতা চায় সে।

ছেলে বা তার পরিবারের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ করতে অস্বীকৃতি জানায়। সে চায় তাকে বিয়ে করে সম্মানজনকভাবে ঘরে তুলে নেয়া হোক। এই বার্তাটি গ্রহন করে মিডিয়া এন্ড পাবলিক রিলেশন্স উইং বিভাগ টাঙ্গাইলের ধনবাড়ি থানার ওসি মো. চান মিয়ার নিকট পাঠিয়ে এ বিষয়ে তাকে উপযুক্ত পদক্ষেপ নিতে নির্দেশনা দেয়।

নির্দেশনার প্রেক্ষিতে, ওসি ধনবাড়ি ছেলেটির পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেন। স্থানীয় অন্যান্য জনপ্রতিনিধি ও গন্যমান্য ব্যক্তিদেরকে সম্পৃক্ত করেন। ওসি ধনবাড়ি মো. চান মিয়ার অসাধারন উদ্যোগ ও আয়োজনে এলাকার সম্মানিত ব্যক্তিবর্গ ও অন্যান্য জনপ্রতিনিধিদের সহায়তায় ছেলে ও মেয়ে উভয় পরিবারের সম্মতিতে ৮ জুন বিয়ে হয়।

মেয়েটি পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন, “সব আশা ভরসা যখন শেষ হয়ে গেছে, বাঁচার ইচ্ছা পর্যন্ত শেষ হয়ে গিয়েছিল, মানসিক ডিপ্রেশনে চলে গিয়েছিলাম, সেই মূহুর্তে আপনারা আমাকে নতুনভাবে বাঁচার অনুপ্রেরণা দিয়েছেন।”

সে আরও অভিযোগ করেন, “একজন সাধারণ মেয়ের পাশে থেকে, আপনাদের একান্ত প্রচেষ্টায় আমার স্বপ্ন পূরণের জন্য আল্লাহর দরবারে হাজার শুকরিয়া জানাই। আপনাদের মানবিক কাজের জন্য আমি নতুন জীবন ফিরে পেয়েছি। আপনাদের ঋণ কোনোদিন শোধ করতে পারবো না। তবে, নামাজ পড়ে দোয়া করবো সারাজীবন।”

শুক্রবার (০৯ জুলাই) বাংলাদেশ পুলিশের মি‌ডিয়া এন্ড পাব‌লিক রি‌লেশন্স উইং‌ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানায়, বিয়ের পর একাধিক বার মেয়েটির সাথে যোগাযোগ করেছে পুলিশ। কথা হয়েছে তার স্বামীর সাথেও।

মেয়েটি জানিয়েছে, খুব ভাল আছে। আরও জানায়, সর্বশেষ ৭ জুলাই মেয়েটির সাথে কথা বলেছে মিডিয়া এন্ড পাবলিক রিলেশন্স। সে জানিয়েছে তারা উভয়েই ভাল আছে। সুখী দম্পতি হিসেবে সংসার জীবন যাপন করছে।

মি‌ডিয়া এন্ড পাব‌লিক রি‌লেশন্স বিভাগের এআই‌জি মো. সো‌হেল রানা জানান, প্রচলিত পুলিশিং এর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট পক্ষদ্বয়ের মধ্যে মানসিক নৈকট্য তৈরী ও সমস্যার দীর্ঘমেয়াদী ও স্থায়ী সমাধানে নানা প্রকার উদ্যোগ গ্রহণ করে থাকে মিডিয়া এন্ড পাবলিক রিলেশন্স।

আরও জানান, ভুক্ত‌ভোগীর স‌র্বোচ্চ কল্যাণ ও সুরক্ষা বি‌বেচনায় প্র‌যোজ্য ক্ষে‌ত্রে ঘটনার সা‌থে সং‌শ্লিষ্ট ব্য‌ক্তি ও বিষয়াদির নাম প‌রিচয় প্রকাশ না করার প‌লি‌সি অনুসরন ক‌রে থা‌কে মি‌ডিয়া এন্ড পাব‌লিক রি‌লেশন্স উইং।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এ বিভাগের আরো সংবাদ