আজ ১২ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

মধুপুরে মুরগী ও গরু খামারিদের প্রনোদনায় ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ

বিশেষ প্রতিনিধিঃ টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার মহিষমারা ইউনিয়নের বেচুরাগুণি গ্রামের শাহজাহানের ছেলে বেলায়েত হোসেন ছিলেন মুরগি খামারি। এখন তার মুরগি নেই। তালিকায় তার নাম অন্তর্ভুক্ত করে ২২ হাজার টাকা পাওয়ার ব্যবস্থা করেন মো.হারুন অর রশীদ নামে এক পোল্ট্রি ফিড ব্যবসায়ী। বেলায়েত হোসেন কে না জানিয়ে তিনি বেলায়েতের নাম তালিকা ভূক্ত করেন। তাকে বলা হয় গরিবদের জন্য সরকারি টাকা তার মোবাইলে আসবে। বেলায়েত সরল মনে তার বিকাশ নম্বরে আসা টাকা হারুনের হাতে তুলে দিয়েছেন। একই ভাবে হারুন নিজের নামে ও তার কর্মচারি ছাইদুর রহমানের নাম ব্যবহার করে একই কাজ করেছেন। অথচ ছাইদুর রহমানের কোন মুরগি বা গরুর খামার নেই। অরণখোলা ইউনিয়নের গাছাবাড়ি গ্রামের হাসান আলীর তিনটা গরু আছে। প্রতিবেশি তারা মিয়া নামের একজন ব্যাংক লোন পেতে সহযোগিতা চেয়ে তার গরুর পাশে দাড়িয়ে ছবি তোলেন। আ.মজিদের মাধ্যমে খামারি সেজে তিনি তালিকা ভূক্ত হয়ে ১০ হাজার একশ কয়েক টাকা মোবাইলে পেয়েছেন। মাধ্যম হিসাবে অফিসের নামে ৫ হাজার টাকা মজিদের হাতে তুলে দিতে হয়েছে। মহিষমারা ইউনিয়নে শালিকা গ্রামের মুনসুর আলী ও আব্দুল কদ্দুছ জানান,আমরা গারোবাজারের পশু ডাক্তার নুরুল ইসলামের মাধ্যমে টাকা পেয়েছি। কিন্তু প্রত্যেকেই ৫হাজার করে টাকা ডাক্তার নুরুল ইসলামের হাতে অফিসের নামে তুলে দিতে হয়েছে।

চলমান করোনা মহামারিতে টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলা প্রাণি সম্পদ খাতে ক্ষতিগ্রস্থ খামারিদের প্রনোদনা প্রদানে তালিকা তৈরি থেকে প্রনোদনার টাকা প্রাপ্তি পর্যন্ত চরম অনিয়ম ও র্দর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। করোনা কালীন এ সংকট মহুর্তের জন্য প্রাণি সম্পদ ও দুগ্ধ প্রকল্পে (এল.ডি.ডি.পি) গাভি খামারিদের প্রনোদনার জন্য দুই ধাপে প্রায় দুই হাজার খামারির অনুকুলে কয়েক কোটি টাকা বরাদ্ধ হয়েছে। অনিয়ম ও দূর্ণিতীর কারণে প্রকৃত খামারিরা বঞ্চিত হয়েছে। বরাদ্দের পুরো টাকার অর্ধেকই একটি চক্র,নামে-বেনামের খামারিদের নাম অর্ন্তভূক্ত করে হাতিয়ে নিয়েছেন। এ বিষয়ে মধুপুর প্রাণি সম্পদ অফিসের অনেকের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেও অস্বীকার করছেন কতৃপক্ষ। বিষয়টি নিয়ে মহিষমারা ইউনয়নের মহিষমারা গ্রামের সি.আই.জি তালিকা ভূক্ত ৫জন খামারি বাদী হয়ে মধুপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্ত বরাবর গত ৪ জুলাই একটি লিখিত আবেদন করেছেন। অভিযোগকারী মো.নজরুল ইসলাম বলেন, আমি সি.আই.জি তালিকাভূক্ত প্রকৃত খামারি কি›তু তালিকায় আমার নাম নেই অপর দিকে প্রনোদনার অর্ধেক টাকা ছেড়ে দেয়ার শর্তে অ-খামারিরা প্রনোদনার টাকা পাচ্ছেন। সুপারির বেপারি হামিদ আলী একটি দেশী মুরগিও পালন করেনা অথচ তালিকাভূক্ত হয়ে অর্ধেক কমিশন শর্তে প্রনোদনা পেলেন। ভ্যান চালক হত দরিদ্র আব্দুর রশিদ নুন আনতে পান্তা ফুরায় অথচ প্রনোদনার টাকা পেলেন মাত্র ৫শত টাকা। জানতে চাইলে হামিদ আলি বলেন,আজাহার মন্ডলের মাধ্যমে তালিকা ভুক্ত হয়েছি। ক্ষমতা আছে বলেই পেয়েছি তাতে আপনার কি সমস্যা? মহিষ মারা উত্তর পাড়ার বাসিন্দা মতিয়ার রহমান প্রকৃত খামারি ১২শ মুরগি দেখিয়ে প্রনোদনা নিলেন কিন্তু তার পিতা আব্দুছ ছাত্তারের নামে ভূয়া ১৫শ মুরগি দেখিয়ে টাকা তুলে নিলেন। একই ভাবে ,একই মুরগি দুই নামে দেখিয়ে প্রনোদনার টাকা তুলে নিয়েছেন,শাহ আলম ও তার পিতা ইয়াকুব আলী,জাহিদুল ইসলাম ও তার পিতা,হযরত আলী,আবুল কাশেম ও ছোট ভাই শাহাদত হোসেন,আব্বাছ আলী ও ছোটভাই আরশেদ আলী,আজগর আলী সহ অনেকেই। মহিষমারা ইউনিয়নের এল.এস.পি তালিকা প্রস্তুত করার দায়িত্ব পাওয়া আকলিমা জাহানের কাছে জানতে চাইলে তাঁর স্বামী হারুন অর রশীদ জানান,তালিকা তৈরির সময় স্ত্রীসহ তিনি করোনা পজেটিভ ছিলেন। কর্তৃপক্ষ তাদের ছাড়াই বিকল্প ব্যবন্থায় তালিকা করেছে। পাশের উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের রসুলপুর(ঢলুয়া) গ্রামের ডাক্তার শাহজাহান, আশ্রা গ্রামের জাহাঙ্গির আলম মহিষমারা গ্রামের হারুণ ও আজাহার,নতুনবাজারের শফিকুল ইসলাম তালিকা তৈরিতে সহযোগিতা করেছে। খোজ নিয়ে জানা যায়,আজাহার আলী ও জাহাঙ্গীর আলম মহিষমারা ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান কাজি আব্দুল মোতালেব এর ঘনিষ্ট জন। এ বিষয়ে কাজি আব্দুল মোতালেব বলেন,দূর্নীতি কারী সে যে কারো লোকই হোক না কেন তার সঠিক বিচার হোক । অরণখোলা ইউনিয়নের আমতলী গ্রামের তালিকা করেছেন ওই গ্রামের সিকান্দার আলীর ছেলে এল.এস.পি নুরুল আলম। অভিযোগ উঠেছে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে একই গরু দেখিয়ে তালিকায় ৯২৫ নম্বর সিরিয়ালে এল.এস.পি তার নিজের নাম সহ ১৩১৯ নম্বরে তার মা হাজেরা বেগম,১৩১৮ নম্বরে তার ভাই মো. এ লতিফ,১৩২০ নম্বরে ভাবি রহিমা ও লতিফের ছেলে ভাতিজা আরিফ হোসেনের নাম অন্তভূক্ত করে প্রনোদনা ভাগিয়ে নিয়েছেন। জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা (ডি.এল.ও) ডা. রানা মিয়া জানান, এটি একটি মেগা প্রজেক্ট। এ প্রজেক্টের আওতায় কোভিট-১৯ সময়ে ক্ষতিগ্রস্থ খামারিদের প্রজেক্ট কেন্দ্র থেকে সরাসরি প্রনোদনা দেয়ার ব্যবস্থা করেছে। যা অব্যাহত আছে। এমন ইতিবাচক প্রজেক্টে কারো বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ঠ অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা.হারুণ অর রশীদ জানান, আমার বিরুদ্ধে এ সব অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এ বিভাগের আরো সংবাদ