আজ ১২ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

ধনবাড়ী ক্রিড়া সংস্থার ভবনটি এখন জুয়াড়ি ও মাদকসেবীদের আড্ডাস্থল

জয়নাল আবেদীন, বিশেষ প্রতিনিধিঃ উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার একটি পুরোনো কমিটি রয়েছে। ক্রীড়া ও সংস্কৃতি চর্চার জন্য নবাবী আমলের দুটি ময়দানসহ বিশাল তিনটি মাঠ রয়েছে। কিন্তু পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়াঙ্গনে বন্ধ্যত্ব দেখা দিয়েছে। কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার জীর্ণ ভবনটি এখন জুয়াড়ি ও মাদকসেবীদের আড্ডাস্থল। সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চার অভাবে কিশোর ও যুবকরা মাদকের দিকে ঝুঁকছে।

এমন অভিযোগ তুলেছেন ধনবাড়ী উপজেলার অবসরপ্রাপ্ত প্রবীণ শিক্ষক এবং সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মীর আশরাফুল ইসলাম।

জানা যায়, ২০০৬ সালে মধুপুর উপজেলা বিভক্ত করে ধনবাড়ী উপজেলা গঠিত হয়। ধনবাড়ী মানেই নবাব বাহাদুরের প্রাচীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা। এটিকে ধরে রাখার জন্য ২০১২ সালে টাঙ্গাইল জেলা পরিষদ ধনবাড়ী পৌর বাসস্ট্যান্ডে দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করেন ধনবাড়ী উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার ভবন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে সভাপতি করে গঠিত হয় উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার কমিটি। কিন্তু এ কমিটি ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা না রাখায় হতাশ ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সেবীরা।

ধনবাড়ী উপজেলা ক্রিকেট একাডেমির কোচ মোহাম্মদ জনি চৌধুরী জানান, প্রতি বছর সরকার উপজেলা পরিষদকে ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক জাগরণে ফান্ড দিলেও পেশাদার ক্লাবগুলো অনুদান থেকে বঞ্চিত হয়। ক্রীড়া সংস্থা ও ক্রীড়া ভবনটি কোনো দিনই খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক চর্চায় কোনো অবদান রাখেনি।

ফুটবলার আলামীন মিয়া জানান, এখানে ব্যক্তি উদ্যোগে তিন মাস ধরে ফুটবল কোচিং হচ্ছে। ক্রীড়া সংস্থা কখনো খোঁজই নেয়নি। ভবনটিতে এক সময় জুয়া চলত। ঠিকাদারের মালামাল রাখা হতো। এখন এটি পরিত্যক্ত ভূতুড়ে বাড়ি।

ধনবাড়ী উপজেলা নারী ফুটবলার কোচ জহিরুল ইসলাম মিলন জানান, প্রতি বছর ধনবাড়ী নবাব মাঠে বসে বৈশাখী মেলা। আর কোরবানির ঈদে পশু বিক্রির হাট। তখন মাঠে ব্যাপক খোঁড়াখুঁড়ি হয়। সেসব গর্ত কেউ ভরাট না করায় ছেলেমেয়েরা মাঠে দীর্ঘদিন খেলাধুলা করতে পারে না। ক্রীড়া সংস্থার কাছে অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার মেলে না।

উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার ভবন লাগোয়া মাইকের দোকান আবু তারেক লাকির। তিনি জানান, ২০২০ সালের জুন মাসের পর কর্তৃপক্ষকে ক্রীড়া সংস্থা ভবনের তালা খুলতে দেখেননি। ভবনটির জানালা-দরজা ভাঙা। ভবনে আগাছা গজিয়েছে। মানুষ সেখানে ময়লা-আবর্জনা ফেলে। পথচারীরা প্রস্রাব-পায়খানা করে। দুর্গন্ধে সেখানে যাওয়া যায় না।

ধনবাড়ী প্রেসক্লাবের সম্পাদক আনসার আলী জানান, ভবনটির দোতলায় এখনো জুয়া ও মাদকের আসর বসে। উপজেলা উন্নয়ন ও সমন্বয় কমিটির সভায় এমন অভিযোগ তোলা হয়েছে বহুবার। কিন্তু প্রতিকার মেলেনি।

ধনবাড়ী উপজেলা চেয়ারম্যান হারুন অর রশীদ জানান, এ প্রজন্মের কিশোর ও যুবকরা খেলাধুলা করতে চায় না। সারাক্ষণ মোবাইল নিয়ে ব্যস্ত থাকে। নানা কারণে ভবনটি নির্মাণের প্রকৃত উদ্দেশ্য বাস্তবায়িত হয়নি। দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত থাকায় এটি এখন ব্যবহারেরও অনুপযোগী।

উপজেলা পরিষদের ক্রীড়া ফান্ড থেকে প্রতি বছর লক্ষাধিক টাকা ইউনিয়ন পরিষদকে বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু অধিকাংশ ইউপি চেয়ারম্যান গ্রামাঞ্চলের ক্লাবগুলোতে মানসম্মত সামগ্রী বিতরণ করেন না বলে প্রায়ই অভিযোগ আসে। নিজের দলের লোক ইউপি চেয়ারম্যান বলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়াও কঠিন।

ধনবাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার শেখ শামসুল আরেফীন জানান, ভবনটি মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা ফুটবলে ক্রীড়াবিদরা অংশ নিয়ে থাকেন। করোনা পরিস্থিতি চলে গেলে ক্রীড়া সংস্থার পুরোনো কমিটি ভেঙে নতুন কমিটি করা হবে। ক্লাবগুলোর মধ্যে ক্রীড়া সামগ্রী নতুন করে বিতরণ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এ বিভাগের আরো সংবাদ