আজ ১২ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

কুমুদিনী হাসপাতালে করোনা ইউনিট চালু

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ এশিয়া খ্যাত দানবীর রণদা প্রসাদ সাহার নিজ হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে কুমুদিনী হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য করোনা ইউনিট চালু করা হয়েছে। করোনা আক্রান্ত রোগীদের বিনামূল্যে অক্সিজেন ও বিভিন্ন ওষুধ দেয়া হচ্ছে। শনিবার (১০ জুলাই) হাসপাতাল ঘুরে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, করোনা রোগীদের জন্য ৪০টি সাধারণ বেড ও ৮টি আইসিইউ এর ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়াও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্রেক্স এর মাধ্যমে করোনা পরীক্ষার ব্যবস্থা রেখেছে। করোনা পরীক্ষা করার জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যাতায়াত ও পরীক্ষা ফি বাবদ জনপ্রতি ২০০ টাকা করে নিয়ে থাকে। ফলে পৌর শহরের প্রাণকেন্দ্র থেকে করোনা পরীক্ষা করতে পেরে খুশী সাধারণ মানুষ। বর্তমানে ১২-১৩ জন করোনা রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের দেখভালের জন্য সার্বক্ষণিকভাবে ১ জন ডাক্তার ও ৪ জন নার্স নিয়োজিত রয়েছেন।

পুরো হাসপাতালটিতে ২০০ এর অধিক ডাক্তার ও প্রায় ৭ শতাধিক নার্স চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।

করোনা ইউনিটের দায়িত্বপ্রাপ্ত ডা. শুভ বশাক বলেন, বর্তমানে করোনা ইউনিটে ৪ জন নারী করোনা আক্রান্ত রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন আরও ২ জন। করোনা উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিতে আসাদের জন্য আলাদাভাবে একটি আইসোলেশন সেন্টারও রয়েছে। যেখানে বর্তমানে নারী-পুরুষ মিলে ১১ জন রোগী সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।

কুমুদিনী হাসপাতালের সহকারি জেনারেল ম্যানেজার অনিমেষ ভৌমিক জানান, এ পর্যন্ত আমাদের হাসপাতাল থেকে শতাধিক করোনা আক্রান্ত রোগী সুস্থ হয়ে বাড়িতে ফিরেছেন। আমরা সবাই সর্বাত্মকভাবে সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি।

কুমুদিনী হাসপাতালের পরিচালক ডা. প্রদীপ কুমার রায় বলেন, দেশে করোনা প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পরপরই আমরা করোনা ইউনিট চালু করেছিলাম। কিন্তু বর্তমানে পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে। তাই আমরা করোনা ইউনিটে নতুন করে আরও ৪৮টি বেড বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাকসুদা খানম বলেন, আমি ও সিভিল সার্জন মহোদয় করোনা আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার ব্যাপারে কুমুদিনী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলেছিলাম। তারা আমাদের আহবানে সাড়া দিয়ে এগিয়ে এসেছে। তাদের চিকিৎসার মান অত্যন্ত সস্তোষজনক। দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে কুমুদিনীর এমন উদ্যোগ মির্জাপুর তথা দেশবাসী মনে রাখবে।

জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ হাফিজুর রহমান জানান, কুমুদিনীতে আলাদাভাবে করোনা রোগীদের চিকিৎসা ব্যবস্থা করার জন্য মির্জাপুরবাসী অনেক উপকৃত হয়েছে এবং এই সংকটময় মুহূর্তে এটি আমাদের জন্য বড় পাওয়া। বড় ধরনের কোনো সমস্যা না হলে রোগীরা এখান থেকে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এ বিভাগের আরো সংবাদ