আজ ১২ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

মির্জাপুরে দুই পাড়ার মানুষের টানাটানিতে এক দশকেউ নির্মিত হয়নি ভাওড়া ইউনিয়ন পরিষদ

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ সরকার আর খান—দুই পাড়ার মানুষের টানাটানিতে এক দশকেও ভাওড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) নতুন ভবন নির্মিত হয়নি। নিজেদের পাড়ায় ভবন পেতে ইতিমধ্যে দুই পক্ষই মামলায় জড়িয়েছে। ফলে ছোট্ট একটি টিনশেডের চারচালা ঘরে চলছে ইউপির কার্যক্রম। এতে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন ইউনিয়নের জনগণ।

২০০০ সালে মির্জাপুর ইউনিয়ন থেকে পৌরসভা হলে ভাওড়া গ্রাম পৌরসভার বাইরে থেকে যায়। এই ভাওড়া গ্রামে রয়েছে সাতটি পাড়া। ২০১০ সালে বহুরিয়া ইউনিয়ন ভেঙে কয়েকটি গ্রাম ও ভাওড়া গ্রাম নিয়ে নতুন ভাওড়া ইউনিয়ন গঠিত হয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই ইউনিয়ন গঠনে ভূমিকা রাখেন ভাওড়া গ্রামের সন্তান তৎকালীন সরকারের অতিরিক্ত সচিব মো. ওয়াজেদ আলী খান। তিনি ভাওড়া ইউনিয়ন পরিষদ গঠনে গ্রামের সরকারপাড়ায় ভাওড়া-কামারপাড়া সড়কসংলগ্ন নিজস্ব ২৫ শতাংশ ভূমি পরিষদের নামে লিখে দেওয়ার প্রস্তাব পাঠান।

প্রস্তাবিত জায়গায় ভাওড়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্মাণের অনুমোদন পাস হয়। দরপত্র আহ্বান শেষে ঠিকাদার মাটি পরীক্ষাসহ ভবন নির্মাণে প্রাথমিক কাজও শুরু করেন।

অপরদিকে ২০১২ সালে ওই ইউনিয়ন পরিষদের প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে খানপাড়ার বাসিন্দা সাইদুর রহমান খান সাঈদ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তিনি নির্বাচিত হওয়ার পর একই সড়কের খানপাড়ায় ২৬ শতাংশ পারিবারিক জমি পরিষদকে দেন। সেখানে একটি চারচালা ঘর নির্মাণ করেন। পরে সেখানে অস্থায়ী কার্যালয় করা হয়।

এদিকে দুই পক্ষের সৃষ্ট জটিলতা নিরসনে সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি দল সরেজমিনে ভাওড়া গ্রাম পরিদর্শন করে। পরিদর্শন শেষে তাঁরা সরকারপাড়ায় ভবন স্থাপনের পক্ষে প্রতিবেদন দেন। কিন্তু চেয়ারম্যান সাইদুর ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে মামলা করেন। প্রায় আট বছর ধরে এই মামলা চলমান।

গত শুক্রবার সরেজমিনে ভাওড়া গ্রামে গিয়ে দুই পক্ষের সঙ্গে কথা হয়। সরকারপাড়ার বাসিন্দা সাবেক মেম্বার আব্দুল হাই বলেন, স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল, পোস্ট অফিস, খেলার মাঠ ও বাজার এই সরকারপাড়ায়। এখানে ইউনিয়ন পরিষদের ভবন হলে এক জায়গায় সব সুবিধা পাবেন ইউনিয়নের মানুষ।

খানপাড়ার বাসিন্দা আব্দুল মালেকসহ কয়েকজন বলেন, খানপাড়া ইউনিয়নের মধ্যবর্তী স্থান। ইউনিয়নের আমরাইল, চামুটিয়া, চাঁনপুর, কামারপাড়া, শশদরপট্টি, জালসুকাসহ বেশির ভাগ গ্রামের মানুষ খানপাড়ায় ভবন চান।

বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন বলেন, দুই পাড়ার বাসিন্দাদের রশি টানাটানিতে ভবন হচ্ছে না। পরিষদে কম্পিউটারসহ ইন্টারনেট সুবিধা ও এজলাস নির্মাণে বরাদ্দ এসেছিল। কিন্তু ভবন না থাকায় তা পাওয়া যায়নি। এতে জনগণ আধুনিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এ বিভাগের আরো সংবাদ