আজ ১২ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

ছয় দিন পার হলেও ঈদে বরাদ্দ চাল পায়নি ঘাটাইলের দিঘলকান্দি ইউনিয়নের ২৩২৯টি দুস্থ পরিবার

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ ছয় দিন পার হলেও ঈদুল আজহা উপলক্ষে বরাদ্দ বিশেষ ভিজিএফের চাল পায়নি টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার দিঘলকান্দি ইউনিয়নের দুই হাজার ৩২৯টি দুস্থ পরিবার। ফলে এসব পরিবারের সদস্যদের ঈদ কেটেছে অতি কষ্টে। ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্যদের মধ্যে দ্বন্দ্ব ও সমন্বয়হীনতার কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ঘাটাইলের ১৪টি ইউনিয়নে ৩০ হাজার ২৫টি দুস্থ পরিবারের মধ্যে বিতরণের জন্য ৩০০.২৫০ টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের ঈদুল আজহা উপলক্ষে বিশেষ ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় প্রতি পরিবারকে ১০ কেজি করে চাল দেওয়ার কথা।

ঈদের আগে ১৩টি ইউনিয়নে চাল বিতরণের কাজ শেষ হলেও দিঘলকান্দি ইউনিয়নে এখনো বিতরণ করা হয়নি। এমনকি গুদাম থেকে চাল উত্তোলন করা হয়নি। ফলে দুই হাজার ৩২৯টি দুস্থ পরিবার এবারের ঈদ কাটিয়েছে মানবেতরভাবে।

কালিয়াগ্রামের ফারুক খান (৫০) বলেন, ‘আশায় বইসা ছিলাম ঈদের আগে প্রতিবারের মতো সরকার আমাগো চাল দিব। কিন্তু অন্য বছর পাইলেও এবার কোনো চাইল পাই নাই।’

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ জুন চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান। তাঁর মৃত্যুর পর প্যানেল চেয়ারম্যান নির্বাচন নিয়ে ইউপি সদস্যদের মধ্যে প্রতিযোগিতা শুরু হয়। পরিষদের নিয়মিত কাজ ফেলে প্যানেল চেয়ারম্যান হওয়ার প্রতিযোগিতায় নামেন ইউপি সদস্যরা। এ অবস্থায় গত ১২ জুলাই ইউপি সদস্য মো. ছালামত হোসেন খান হিটলু লটারিতে প্যানেল চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্ব আরো বেড়ে যায়।

পরিষদের সচিব জহুরা বেগম জানান, ইউপি সদস্যরা অসম্মতি প্রকাশ করায় ঈদের আগে চাল বিতরণ করা সম্ভব হয়নি। এমনকি গুদাম থেকে চাল উত্তোলনও করা হয়নি। স্থানীয় প্রশাসন ও ইউপি সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত চাল বিতরণের ব্যবস্থা করা হবে।

নবনির্বাচিত প্যানেল চেয়ারম্যান মো. ছালামত হোসেন খান বলেন, ‘আমার বিষয়টি সরকারের স্থানীয় সরকার বিভাগ এখনো চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়নি। তাই দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতে পারিনি। চেষ্টা করছি আগামী সপ্তাহের মধ্যে চাল বিতরণ করা সম্ভব হবে।’

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এনামুল হক বলেন, ‘যথাসময়ে এই ইউনিয়নের নামে চাল বরাদ্দ দেওয়া হলেও তারা তা উত্তোলন করেনি এবং বিতরণও করেনি।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ফারজানা ইয়াসমিন বলেন, ‘চেয়ারম্যান মারা যাওয়ায় দাপ্তরিক কাজে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে, যার কারণে ঈদের আগে চাল বিতরণ করা সম্ভব হয়নি। অতি দ্রুতই এই সমস্যা নিরসন করা হবে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এ বিভাগের আরো সংবাদ