আজ ১২ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

পাকুটিয়া হাটে লোকসানে চামড়া বিক্রি

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে পাকুটিয়া চামড়ার হাটে কেনা দামের চেয়ে কম দামে চামড়া বিক্রি হচ্ছে। এতে ক্ষুদ্র, মাঝারি ও মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীরা সর্বস্বান্ত হয়ে যাবেন বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। ক্রেতা, বিক্রেতা ও হাট ব্যবস্থাপকদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

রোববার (২৫ জুলাই) ছিল ঈদের পর পাকুটিয়ায় প্রথম চামড়ার হাট। সকাল ৮টার দিকে দেশের অন্যতম বৃহৎ এই চামড়ার হাটে গিয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। ঈদের পর প্রথম দিনের হাট ভালোভাবে জমে উঠেনি। ভ্যান ও সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে কিছু চামড়া আসছে।

হাটের খাস কালেকটর (খাজনা আদায়কারী) ইমদাদুল হক খান ভুলু জানান, এই হাটে মুলত চামড়া আসে ময়মনসিংহ, জামালপুর, শেরপুর, সিরাজগঞ্জ জেলা থেকে। লকডাউনের কারণে অন্য বছরের তুলনায় ২০ ভাগের ১ ভাগ চামড়াও এবার আসেনি।

হাটে মুখ গম্ভির করে বসেছিলেন জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ থেকে আসা সুনীল দাস। তিনি বলেন, চামড়া কিনেছি ৫৫০ টাকা দরে। হাটে দাম বলছে ৫০০ টাকা। চার হাজার টাকা গাড়ি ভাড়া দিয়ে এসেছি। এর উপর প্রতি চামড়ায় খাজনা দিতে হবে ৪০ টাকা। আমি এ ব্যবসা না ছাড়লেও এই ব্যবসা আমাকে ছেড়ে যাবে।

মধুপুর উপজেলার মোটের বাজার থেকে চামড়া ব্যবসায়ী পুণ্য সরকার এসেছেন বাজারের খোঁজ নিতে। তিনি বলেন, লবণসহ প্রতিটি গরুর চামড়ায় আমার খরচ পড়েছে ৫০০ টাকা। বাজারে সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা করে তা বিক্রি করতে পারব। ৭০০ গরুর চামড়া কিনেছি। আমার এখন মাথায় হাত।

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার অরুণ কুমার, জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার বাকী মিয়া, ঘাটাইলের শহিদুল ইসলাম, সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার আরফান সরকার চামড়ার দাম নিয়ে তাঁদের হতাশার কথা টিনিউজকে জানান। এ বছরই তাঁরা ব্যবসার পুঁজি হারিয়ে পথে বসবেন।

অরুণ কুমার বলেন, আমি চার লাখ টাকার চামড়া কিনেছি। খরচ হয়েছে আরও ৪০ হাজার টাকা। এই চামড়া আমি বড়জোর তিন থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকায় বিক্রি করতে পারব। এতে আমার চরম লোকসান হবে।

ঢাকার আজমির ট্যানারির ক্রয় প্রতিনিধি আবু সাইদ বলেন, চামড়ার দরপতন একটি আন্তর্জাতিক সমস্যা। ঢাকার বাজার থেকে কেনা চামড়াগুলো গোছগাছ করে দেশের প্রত্যন্ত এলাকার বাজারে যখন আসবে, দর তখন কিছুটা চাঙা হবে। করোনা মহামারিতে শুধু ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী কেন অনেক বড় ব্যবসায়ীও দেউলিয়া হয়ে গেছেন।

পাকুটিয়া হাটের খাজনা আদায়কারী ইমদাদুল হক খান ভুলু বলেন, লকডাউনের কারণে বড় পাইকাররা হাটে আসতে পারছেন না। ঋণগ্রস্থ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা বাধ্য হয়ে কম দামে স্থানীয় পাইকারদের কাছে চামড়া বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। লকডাউন উঠে গেলে দাম কিছুটা বাড়বে বলে আশা করছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এ বিভাগের আরো সংবাদ