আজ ১২ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

কালিহাতীতে বিয়ের দাবিতে স্কুলছাত্রীর অনশন মিমাংশার ৪ লাখ টাকা মাতাব্বরদের পকেটে

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার বীরবাসিন্দা ইউনিয়ের আটাপাড়া গ্রামের ছাত্তার তালুকদারের ছেলে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা (বর্তমানে বড়গুনায় কর্মরত) সাজ্জাত তালুকদারের বাড়িতে বিয়ের দাবিতে অনশন শুরু করে এক স্কুলছাত্রী। এক সপ্তাহ অতিবাহিত হওয়ার পর বিষয়টি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলে সাড়ে চার লাখ টাকার বিনিময়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। কিন্তু জরিমানার সাড়ে চার লাখ টাকা মেয়ের পরিবারকে না দিয়ে পাইকড়া ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জালাল উদ্দিনসহ স্থানীয় মাতাব্বরদের বিরুদ্ধে আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।

তবে এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে রাজি হয়নি জালাল উদ্দিন।

স্থানীয়রা জানান, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সাজ্জাত তালুকদারের সাথে একই উপজেলার স্কুল পড়ুয়া এক ছাত্রীর সাথে ৬ মাস আগে মোবাইলের মাধ্যমে প্রেমের সম্পর্ক হয়। পরবর্তীতে তাদের মধ্যে শারিরীক সম্পর্ক হয়। এক পর্যায় স্কুল ছাত্রী সাজ্জাতকে বিয়ের জন্য চাপ দেয়।

সাজ্জাত বিয়ে করতে অনীহা প্রকাশ করে। পরে গত ১৯ জুলাই ওই স্কুল ছাত্রী উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সাজ্জাত তালুকদারের বাড়িতে গিয়ে বিয়ের দাবিতে অনশন শুরু করে। এলাকায় জানাজানি হওয়ার আগেই সাজ্জাত তালুকদারের চাচাতো ভাই বীরবাসিন্দা ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আজহারুল ইসলাম মাসুদ স্কুলছাত্রীকে তার বাড়িতে নিয়ে যান।

বিষয়টি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলে গত সোমবার শালিসী বৈঠক হয়। সেখানে সাড়ে চার লাখ টাকার বিনিময়ে মীমাংসা করা হয়। কিন্তু স্কুল ছাত্রীকে পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দিলেও তার পরিবারকে টাকা দেওয়া হয়নি।

অভিযোগ রয়েছে ইউপি সদস্য জালাল উদ্দিন, মেয়ে পক্ষের মাতাব্বর মোস্তফা, মনজু, আদম ব্যবসায়ী হারুন আত্মসাত করেছেন।

তথ্য রয়েছে, আপোষ মীমাংসা পত্রে সকলের স্বাক্ষর নেওয়া হলেও মেয়ে স্বাক্ষর দেয়নি।

ইউপি সদস্য জালাল উদ্দিনসহ মাতাব্বররা নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য মেয়ের ইচ্ছার বিরুদ্ধে সমাধান করেছে। বিষয়টি নিয়ে আটাপাড়া গ্রাম ও মেয়ের গ্রামে সমালোচনার ঝড় বইছে। তবে এ বিষয়ে ইউপি জালাল উদ্দিন, মাতাব্বর মোস্তফা কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। এ দিকে আদম ব্যবসায়ী হারুনের বাড়িতে গিয়ে ও মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।

সাজ্জাতের বাবা ছাত্তার তালুকদার বলেন, মীমাংসার সময় আমি ছিলাম না। তবে বিষয়টি আমার ভাতিজা ইউপি সদস্য মাসুদকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। আর জরিমানার টাকাটা তার হাত দিয়েই মাতাব্বরদের কাছে দেয়া হয়েছে।

বীরবাসিন্দা ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আজহারুল ইসলাম মাসুদ বলেন, ঈদের পরে গত সোমবার মেয়ের গ্রামে বসে সাড়ে চার লাখ টাকার বিনিময়ে বিষয়টি সমাধান করা হয়েছে। আপোষ মীমাংসার জন্য স্ট্যাম্পে সকলের স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। মীমাংশার পরদিন আমার ছোট ভাই উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সাজ্জাত তালুকদার চাকুরীর কর্মস্থল বড়গুনায় চলে গেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এ বিভাগের আরো সংবাদ